হবিগঞ্জের বানিয়াচংয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পর ১০ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছে ১০ বছর বয়সী তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ফাবিয়া তাবাসসুম মীম। শিশুটির সন্ধান চেয়ে নিখোঁজের নয় দিন পর পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে দীর্ঘ সময় লাগায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
নিখোঁজ ফাবিয়া তাবাসসুম মীম বানিয়াচং উপজেলার ১ নম্বর উত্তর-পূর্ব ইউনিয়নের চতুরঙ্গ রায়ের পাড়া এলাকার খোয়াজ আলী মিয়ার মেয়ে। সে স্থানীয় দারুল হিকমাহ তা'লীমুল কুরআন একাডেমি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের মতো মাগরিবের সময় সহপাঠীদের সঙ্গে মাদ্রাসায় যায় মীম। এশার আজানের সময় মাদ্রাসা ছুটি হলেও অন্য শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরলেও মীম আর বাড়িতে ফেরেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় গিয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সেখানে তার বই, খাতা, ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পাওয়া গেলেও মীমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরিবারের দাবি, কয়েকজন সহপাঠী মীমকে বিকেল পর্যন্ত মাদ্রাসায় দেখেছে। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, সকালে মাদ্রাসায় আসার পর বিকেল ৩টার পর তাকে আর সেখানে দেখা যায়নি। তাদের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজে সকালে মীমের মাদ্রাসায় প্রবেশ এবং বিকেলে বের হওয়ার দৃশ্য পাওয়া গেছে। এরপর সে কোথায় গেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
মীম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়ভাবে মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি পাড়া-প্রতিবেশী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরাও বিভিন্ন এলাকায় শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
এ ঘটনায় মীমের পরিবার বানিয়াচং থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে। শিশুটির সন্ধানে স্থানীয়দের উদ্যোগে মানববন্ধনও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে ওই কর্মসূচিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কেউ উপস্থিত না থাকায় বিষয়টি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এর মধ্যে নিখোঁজের নয় দিন পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। একটি শিশুর নিখোঁজের ঘটনায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে এতটা সময় লাগার কারণ নিয়েই মূলত স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এ বিষয়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নয় দিন পর পত্রিকায় হারানো বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এর আগে মীমকে খুঁজে বের করতে নিয়ম অনুযায়ী বিভিন্নভাবে চেষ্টা করা হয়েছে। মিলাদ মাহফিল আয়োজন এবং স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির সহযোগিতাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, ১০ বছরের একটি শিশু মাদ্রাসা থেকে নিখোঁজ হওয়ার পরপরই ব্যাপক প্রচার, মাইকিং ও গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া হলে অনুসন্ধান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হতো কি না। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের কাছে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেছেন তারা।
মীমের নিখোঁজের ঘটনায় পরিবারে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সন্তানের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় দিন কাটছে বাবা-মা ও স্বজনদের।
এ অবস্থায় নিখোঁজ শিশুটিকে দ্রুত খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বিত ও কার্যকর তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।