
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির আবহে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষে উপজেলার নানুপুর গৌতম বিহারে দিনব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা, ধর্মীয় সভা ও আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। রাতে বর্ণিল ফানুস ওড়ানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। দিনভর বিভিন্ন আয়োজন শেষে রাতে ফানুসের আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে নানুপুরের আকাশ। মনোমুগ্ধকর এ দৃশ্য উপভোগ করতে ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে শত শত মানুষ বিহার প্রাঙ্গণে সমবেত হন।
সন্ধ্যায় নানুপুর গৌতম বিহারের সভাপতি জীবক বড়ুয়া কেন্টুর সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন বিহারের সাধারণ সম্পাদক সুপ্তু বিকাশ বড়ুয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন ফটিকছড়ি উপজেলা সম্মিলিত বৌদ্ধ সমাজের আহ্বায়ক তরুণ কান্তি বড়ুয়া লিটন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক লায়ন ধনঞ্জয় বড়ুয়া রুবেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রশান্ত বড়ুয়া।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফটিকছড়ির সংসদ সদস্য সরওয়ার আলমগীর। বক্তব্যে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বৌদ্ধ সম্প্রদায় দলটির সঙ্গে সুদৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে। দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও এ সম্প্রদায়ের যোগ্য নেতারা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবারণা পূর্ণিমার আনন্দে অংশ নিতে পেরে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক, সবাই বাংলাদেশি। পারস্পরিক ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে।
সভায় প্রবারণা পূর্ণিমার তাৎপর্য ও ধর্মীয় সম্প্রীতি নিয়ে বক্তব্য দেন নানুপুর গৌতম বিহারের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ সুমনলংকার স্থবির, বিএনপি নেতা আজিজ উল্লাহ এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতা জুয়েল চক্রবর্তী।
এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে মিন্টু বড়ুয়া, সম্পদ বড়ুয়া, সুব্রত বড়ুয়া, জয়দেব বড়ুয়া, সাফুল বড়ুয়া, বাপ্পু বড়ুয়া, সুকাশ বড়ুয়া, দুলাল বড়ুয়া, ধীমান বড়ুয়া, আকাশ বড়ুয়া ও জীবন বড়ুয়াসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।