
হাসপাতাল ভবনের ঠিক বিপরীতে নার্সিং কোয়ার্টারের সামনে ডাস্টবিনটির অবস্থান। সরেজমিনে দেখা যায়, ডাস্টবিনের ভেতরের ময়লা উপচে চারপাশে ছড়িয়ে রয়েছে। এসব বর্জ্য কুকুর, বিড়াল ও কাকের মাধ্যমে আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে হাসপাতালের পরিবেশ দূষিত হওয়ার পাশাপাশি সংক্রামক জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের স্বজন ও পথচারীরা এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষ্য, মানুষ সুস্থ হওয়ার আশায় হাসপাতালে আসেন। কিন্তু হাসপাতালের ভেতরেই যদি এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থাকে, তাহলে সুস্থ মানুষও অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
রোগী ও স্থানীয়দের ধারণা, ডাস্টবিনের বর্জ্য অপসারণ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পৌরসভার মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা জরুরি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সম্প্রতি যোগদান করা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মীর শহীদুল হাসান বলেন, পৌরসভার নিয়মিত ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করার কথা। এ জন্য স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে পৌরসভাকে নির্ধারিত হারে কর পরিশোধ করা হয়।
বিষয়টি পৌর প্রশাসকের দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অভ্রজ্যোতি বড়ালকে জানানো হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরের ডাস্টবিনের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার এবং চিকিৎসাবর্জ্য পুড়িয়ে ফেলার জন্য সংশ্লিষ্ট পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক কর্মকর্তা বলেন, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের হলেও জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ ও নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার মূল দায়িত্ব পৌর কর্তৃপক্ষের। পৌরসভা থেকে ময়লার গাড়ি না আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি জানান।