মানিকগঞ্জের শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে এক নারী ও তার ১০ মাস বয়সী মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ পয়লা গ্রামের আরফান আলী শেখের মেয়ে সনিয়া (২৬) এবং তার ১০ মাস বয়সী মেয়ে জান্নাত। সনিয়ার স্বামী মো. আবুল হোসেন টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত। সনিয়া মানিকগঞ্জের দেবেন্দ্র কলেজের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাত দিনের ছুটিতে স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলেন আবুল হোসেন। সনিয়ার মাস্টার্সের ইনকোর্স পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শনিবার সকালে স্ত্রী ও মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
পথে টেপড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দেয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, বাসটি উল্টো পথে আসছিল।
আবুল হোসেনের ভাষ্য অনুযায়ী, বাসটি সামনে থেকে আসতে দেখে তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে মোটরসাইকেল থেকে স্ত্রী সনিয়া তার কোলে থাকা শিশুসহ সড়কে ছিটকে পড়েন। এ সময় বাসের ধাক্কায় মা-মেয়ে গুরুতর আহত হন।
পরে তাদের দ্রুত শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক সনিয়াকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় ১০ মাস বয়সী শিশু জান্নাতও।
শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সাম্মি জানান, সনিয়াকে হাসপাতালে আনার সময়ই মৃত ছিলেন। শিশুটি তখনও জীবিত ছিল। চিকিৎসকরা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সম্ভব হয়নি।
আবুল হোসেন বলেন, ‘সাত দিনের ছুটি নিয়ে স্ত্রী-মেয়েকে সঙ্গে করে শ্বশুরবাড়িতে এসেছিলাম। পরীক্ষা শেষ হওয়ায় শনিবার সকালে তাদের নিয়ে টাঙ্গাইল ফিরছিলাম। বাসটি উল্টো পথে না এলে আজ হয়তো স্ত্রী-মেয়েকে হারাতে হতো না। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
বরংগাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হারুন অর রশিদ বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত মা-মেয়েকে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়। পরে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, দুর্ঘটনাকবলিত গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটি উথলী এলাকা থেকে আটক করে থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে বাসের চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।