নির্বাচনী প্রচারণা ঘিরে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে গাছের কাণ্ডে পেরেক ঠুকে ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানোর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় নির্বাচনকে ঘিরে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর আগেই উপজেলার বিভিন্ন সড়ক, বাজার ও জনসমাগমস্থলে এমন চিত্র দেখা যাওয়ায় পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, সড়কের পাশে ও বাজারসংলগ্ন বেশ কিছু গাছের কাণ্ডে পেরেক ঠুকে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারণামূলক সামগ্রী টাঙানো হয়েছে। কোনো কোনো গাছে একাধিক ব্যানারও ঝোলানো রয়েছে। এতে একদিকে সড়ক ও জনসাধারণের চলাচলের জায়গার সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে গাছের কাণ্ডে ক্ষত তৈরি হয়ে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পরিবেশসচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, নির্বাচনী প্রচারণার জন্য গাছকে ব্যানার বা বিজ্ঞাপনের কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। গাছ শুধু ছায়া ও সৌন্দর্যই দেয় না; পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তাদের মতে, গাছের কাণ্ডে পেরেক ঠুকে প্রচারণার সামগ্রী টাঙানো হলে কাণ্ডে ক্ষত সৃষ্টি হতে পারে। এতে গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও সুস্থতার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬-এ বৃক্ষের ক্ষতিসাধনের বিষয়ে বিধান রয়েছে। আইনের ৯(১৩) ধারায় বাণিজ্যিক উৎপাদন ছাড়া অন্য কোনো উদ্দেশ্যে পেরেক বা কোনো ধাতব বস্তুর মাধ্যমে বৃক্ষের ক্ষতিসাধন না করার বিধান উল্লেখ করা হয়েছে।
পাশাপাশি প্রচারণামূলক পোস্টার ও দেয়াললিখন নিয়ন্ত্রণেও আইন রয়েছে। দেওয়াল লিখন ও পোস্টার লাগানো (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১২ অনুযায়ী নির্ধারিত স্থান ছাড়া পোস্টার লাগানোর ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন আইন, বিধিমালা ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনাও প্রযোজ্য।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ২০২৬ সালের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন আচরণ বিধিমালার গেজেট প্রকাশের তথ্যও রয়েছে।
স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের প্রশ্ন, মানুষের কল্যাণ, উন্নয়ন ও পরিবেশ রক্ষার প্রতিশ্রুতি নিয়ে যারা জনপ্রতিনিধি হওয়ার প্রত্যাশা করছেন, তাদের প্রচারণায়ই যদি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে বিষয়টি কতটা গ্রহণযোগ্য? প্রচারণার জন্য বিকল্প ও অনুমোদিত স্থান ব্যবহারের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কেন গাছের গায়ে পেরেক ঠুকে ব্যানার টাঙানো হচ্ছে—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।
সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে গাছের গায়ে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণের পাশাপাশি পেরেক ঠুকে গাছ ক্ষতিগ্রস্ত করার ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে ভবিষ্যতে নির্বাচনী প্রচারণার নামে যাতে কোনো গাছের ক্ষতি না হয়, সে জন্য প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদের দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
সচেতন মহলের ভাষায়, গাছ প্রচারণার বোর্ড নয়—গাছ বাঁচানো মানে পরিবেশ বাঁচানো। নির্বাচনী প্রচারণা হোক, তবে প্রকৃতির ক্ষতি করে নয়।