বাগেরহাটের চিতলমারীতে জমির দলিল রেজিস্ট্রির সময় আটটি জাল অনলাইন দাখিলা শনাক্ত করেছেন উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার সমীর কর্মকার। জাল দাখিলা শনাক্তের পর সংশ্লিষ্ট ১৫ শতক জমির দলিল রেজিস্ট্রি স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে জাল দাখিলাসহ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জব্দ করেছে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) চিতলমারী উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমির দলিল রেজিস্ট্রির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া হয়। দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন নোটিশসহ নথিপত্র উপস্থাপন করেন।
সাব-রেজিস্ট্রার সমীর কর্মকার অনলাইন দাখিলার বারকোড যাচাই করতে গিয়ে দেখতে পান, কয়েকটি দাখিলার বারকোড ব্যবহার করে ভূমি-সংক্রান্ত সার্ভারে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি একে একে সব দাখিলা যাচাই করেন। পরে অন্য একটি বৈধ দলিলের দাখিলা পরীক্ষা করলে সেটির বারকোডের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সরকারি সার্ভারে প্রবেশ করা সম্ভব হয়।
এতে দাখিলাগুলো জাল হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হন সাব-রেজিস্ট্রার। তাঁর দাবি, জাল দাখিলাগুলোতে মূল অনলাইন দাখিলার তথ্য ও নকশা হুবহু নকল করা হলেও বারকোড তৈরির ক্ষেত্রে ‘মড়া’-এর পরিবর্তে ‘য়ড়া’ ব্যবহার করা হয়েছে।
সাব-রেজিস্ট্রার জানান, যাচাইয়ে খতিয়ান নম্বর ৮৫৫, ৬৫৯, ৪৮৩, ৪২৩, ৩৭৫, ৫১, ৩৭১, ১৩১ ও ৬৫৮-সংক্রান্ত দাখিলার মধ্যে আটটি জাল হিসেবে শনাক্ত হয়েছে। এসব দাখিলা জাল প্রমাণিত হওয়ায় জমিটির দলিল রেজিস্ট্রি স্থগিত করা হয় এবং জাল দাখিলাসহ নথির সব কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে।
সমীর কর্মকার বলেন, আগামী বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেনের কাছে দাখিলা জাল হওয়ার বিষয়ে লিখিত জবাব চাওয়া হবে। তাঁর জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে দলিল লেখক মুন্সি দেলোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর সহকারী দলিল লেখক সুব্রত রায় দাখিলাগুলোসহ নথি তাঁকে দিয়েছেন। নিজের নাম ব্যবহার করে তিনি নথিটি সাব-রেজিস্ট্রারের সামনে উপস্থাপন করেন।
সহকারী দলিল লেখক সুব্রত রায়ের দাবি, বোয়ালিয়া মৌজার ১৫ শতক জমির দাতা শাকিরুল বেগম ও গ্রহীতা মো. মাসুম কাজী দলিল করার জন্য তাদের কাছে আসেন। মাসুম কাজীই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও দাখিলাগুলো সরবরাহ করেন।
গ্রহীতা মো. মাসুম কাজী বলেন, জমিটি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় কেনার কথা নির্ধারিত হয়েছিল। দলিল রেজিস্ট্রির জন্য তিনি দলিল লেখককে ৮১ হাজার টাকা দেন এবং আরও ১৬ হাজার টাকা দিয়ে জসিমের কাছ থেকে ওই আটটি দাখিলা সংগ্রহ করেন।
চিতলমারী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সভাপতি খান মনিরুজ্জামান বলেন, দাখিলা জালের ঘটনায় তারা নিন্দা জানিয়েছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তিনি।
হিজলা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল ওহাব জানান, গত প্রায় ছয় মাস ধরে বোয়ালিয়া মৌজায় খাজনা আদায় ও দাখিলা দেওয়া বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে চিতলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে তাঁকে কেউ অবহিত করেননি। জাল দাখিলা দাখিলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে সাব-রেজিস্ট্রার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন।