নেত্রকোণার মোহনগঞ্জ ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ৩০ ডাক্তার, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলন, শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্যসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাদের শোকজ করা হয়।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শোকজের চিঠি সংশ্লিষ্টদের কাছে পৌঁছেছে। চিঠির জবাব পাওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জেলা সিভিল সার্জন গোলাম মাওলা স্বাক্ষরিত ওই চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. অলক কান্তি তালুকদার।
শোকজপ্রাপ্তদের মধ্যে ১১ জন মেডিকেল অফিসার, ৯ জন নার্স, চারজন স্যাকমো, একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল), একজন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব), একজন ফার্মাসিস্ট, একজন হিসাবরক্ষক, একজন সিএইচসিপি ও একজন অফিস সহায়ক রয়েছেন।
শোকজ পাওয়া মেডিকেল অফিসাররা হলেন—ডা. পার্থ সরকার, ডা. জান্নাতুল নেছা, ডা. মো. সায়েম, ডা. রাকিবুল ইসলাম, ডা. মো. অন্তিম হাসান, ডা. জয়া রানী দেবনাথ, ডা. মৌমিতা দাস, ডা. লিজা সরকার, ডা. পার্থ প্রতিম সেন, ডা. সৌরভ আহমেদ শাকিল ও ডা. মেহেদী হাসান পিয়াস।
নার্সদের মধ্যে রয়েছেন—রেহেনা আক্তার খানম, মণি আক্তার, রীণা রাণী পাল, মনিরা আক্তার, সাবিকুন্নাহার, হিমা আক্তার, উম্মে হাবিবা সরকার, নূরে ফারজানা ও জান্নাতুল ফেরদৌস।
এ ছাড়া মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) নাজমুল ইসলাম, এমটি (ল্যাব) রেজুয়ান করিম রাজু, ফার্মাসিস্ট বাহারুল্লাহ, হিসাবরক্ষক শামছুল হুদা, স্যাকমো শহীদুর রহমান, বিপ্লব হোসেন, শাহজাহান সিরাজ ও আলমগীর হোসেন, সিএইচসিপি মুশফিকুর রহমান বকুল এবং অফিস সহায়ক মো. মুকুলকে শোকজ করা হয়েছে।
শোকজের সূত্রে জানা গেছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধাচরণ, চেইন অব কমান্ড বিনষ্ট করা, কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কনফারেন্স রুম ব্যবহার, সরকারি সম্পদের অনুমোদনহীন ব্যবহার, জমায়েত ও সভার আয়োজন, দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা, ইচ্ছাকৃত গাফিলতি, আচরণবিধি লঙ্ঘন ও ষড়যন্ত্রের মতো অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শোকজপ্রাপ্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। লিখিত জবাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন ধরে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টানাপোড়েন ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর মধ্যে কয়েকটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. অলক কান্তি তালুকদার বলেন, সিভিল সার্জনের ২৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত চিঠি শনিবার হাতে পেয়েছেন তিনি। এরপর শোকজপ্রাপ্ত ৩০ জনকে সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে স্বাক্ষর করে চিঠি গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
সাত কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্টদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে বলে জানান তিনি।