খেয়া পারাপারের দিন শেষ! ভদ্রা নদীর ওপর সেতুতে ছুটবে যানবাহন

দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা

সারাদেশ

দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। কয়েক দফা ঠিকাদার পরিবর্তন ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে খুলনার দাকোপে ভদ্রা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর

2026-09-24T17:49:24+00:00
2026-09-24T17:49:24+00:00
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
খেয়া পারাপারের দিন শেষ! ভদ্রা নদীর ওপর সেতুতে ছুটবে যানবাহন
দাকোপ (খুলনা) সংবাদদাতা
বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। কয়েক দফা ঠিকাদার পরিবর্তন ও নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে খুলনার দাকোপে ভদ্রা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ শেষ হয়েছে। শেষ হয়েছে সংযোগ সড়কের নির্মাণকাজও। এরই মধ্যে সেতু দিয়ে শুরু হয়েছে যানবাহন চলাচল। এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের।

দাকোপ উপজেলার শিংজোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কালিনগর বাজারসংলগ্ন ভদ্রা নদীর ওপর নির্মিত এ সেতুতে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৮ টাকা। সেতুটি চালু হওয়ায় দাকোপ উপজেলা সদর ও মোংলা বন্দরের সঙ্গে উপজেলার সাত ইউনিয়নের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুটি পুরোপুরি চালু হওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন ও বিপণনে নতুন গতি আসবে। পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার সঙ্গে মোংলা বন্দরের যোগাযোগও আরও সহজ হবে। এতে সরাসরি উপকৃত হবেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ।

স্থানীয়রা জানান, দাকোপ উপজেলা তিনটি পৃথক দ্বীপ নিয়ে গঠিত। এসব এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডার হিসেবে পরিচিত। এক পোল্ডার থেকে অন্য পোল্ডারে যেতে দীর্ঘদিন ধরে খেয়া পারাপারের ওপর নির্ভর করতে হয়েছে বাসিন্দাদের।

নতুন সেতুটি চালু হওয়ায় ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাশে ৩২ নম্বর পোল্ডারে রয়েছে কামারখোলা ও সুতারখালী ইউনিয়ন। আর পূর্ব পাশে ৩৩ নম্বর পোল্ডারে রয়েছে দাকোপ, লাউডোব, কৈলাশগঞ্জ, বাজুয়া ও বানীশান্তা ইউনিয়ন।

স্থানীয়দের আশা, যোগাযোগ সহজ হওয়ায় কৃষকের উৎপাদিত পণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে। এতে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ‘গুরুত্বপূর্ণ ৯টি ব্রিজ নির্মাণ ও প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় কালিনগর জিসি-খুটাখালী জিসি সড়কের শূন্য চেইনেজে ভদ্রা নদীর ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে নির্মিত সেতুটির এক্সটেনশনসহ দৈর্ঘ্য ৬৬১ দশমিক ৬৮৫ মিটার এবং প্রস্থ ৭ দশমিক ৩ মিটার। এর সঙ্গে রয়েছে ৮৯৫ মিটার এইচবিবি সংযোগ সড়ক।

২০১৬-১৭ অর্থবছরে সেতুটি নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হলে পুরান ঢাকার পল্টনের পিটিএসএল মৈত্রী (প্রা.) লিমিটেড কাজের দায়িত্ব পায়। প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ৩৭ কোটি ৪৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৫৫ টাকা। ২০১৬ সালের ১৫ আগস্ট কাজ শুরু হয় এবং ২০১৮ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা সময় বাড়ানো হলেও কাজ শেষ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। পরে তাদের কার্যাদেশ বাতিল করা হয়।

এরপর ২০১৯-২০ অর্থবছরে অসমাপ্ত কাজের জন্য পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হলে বরিশালের মেসার্স কোহিনুর এন্টারপ্রাইজের মেহেদি হাসান চৌধুরী কাজ পান। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যাদেশও বাতিল হয়।

পরবর্তীতে আবার দরপত্রের মাধ্যমে নিকেতন, গুলশান, ঢাকার এমবিইএল-এইসি-কেই (জেভি) কাজের দায়িত্ব পায়। এ পর্যায়ে কাজটির প্রাক্কলিত মূল্য ছিল ১৩ কোটি ৩১ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৩ টাকা। সব মিলিয়ে সেতু নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৫০ কোটি ৭৫ লাখ ৯ হাজার ২৩৮ টাকা।

দাকোপ ইউপি চেয়ারম্যান বিনয় কৃষ্ণ রায় ও কামারখোলা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুর হোসেন বলেন, ভদ্রা নদীর ওপর সেতুটি চালু হওয়ায় উপজেলার পোল্ডারগুলোর মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সড়ক যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষি ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমবিইএল-এইসি-কেই (জেভি)-এর পরিচালক জহিরুল ইসলাম খান বলেন, মূল গার্ডার সেতুর বর্ধিতকরণ ও সংযোগ সড়কের কাজ সম্পূর্ণ শেষ হয়েছে। এখন কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পারে।

তিনি জানান, নির্মাণকাজের সময় দুই দফা বন্যা ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে কাজ বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। তবে পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হয়েছে।

উপজেলা উপসহকারী প্রকৌশলী মিলন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং নকশা অনুযায়ী গুণগত মান বজায় রেখে সেতুটির কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

এলজিইডি খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুল ইসলাম সরদার বলেন, ভদ্রা নদীর ওপর সেতুটি চালু হওয়ায় কয়রা, পাইকগাছা, মোংলা ও দাকোপের সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। একই সঙ্গে কৃষি, পণ্য বিপণন ও স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশে সেতুটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এদিকে সেতুটি চালু হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিন বিকেলে এটি দেখতে ভিড় করছেন আশপাশের এলাকার শত শত মানুষ। দীর্ঘ


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: