নোয়াখালীর সুবর্ণচরে মাদ্রাসাছাত্র মো. নাঈম (১৪) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচনের দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. ইব্রাহীম খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করার পর আদালতেও ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে নাঈমের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে সাবেক স্বামী ইব্রাহীম খলিলকে আসামি করে চরজব্বার থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার নাঈমের বাবার আচরণ ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে কৌশলে তাকে আটক করা হয়। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলেকে হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন বলে দাবি পুলিশের।
ইব্রাহীম খলিল লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার চরজঙ্গালিয়া গ্রামের তোফাজ্জল হকের ছেলে। নিহত নাঈমও একই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে সুবর্ণচর উপজেলার চরজুবলী ইউনিয়নের মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি ধানক্ষেতের পাশ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের নানা এবায়েদ উল্যাহ জানান, সোমবার রাতে নাঈম বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। মঙ্গলবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় ঘুম থেকে উঠে তিনি নাঈমকে ঘরে দেখতে পাননি। ঘরের দরজাও খোলা ছিল। পরে সকাল ৭টার দিকে সার আনতে যাওয়ার পথে বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ গজ দূরে ধানক্ষেতের পাশের সড়কে নাঈমের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে নাঈমের বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে নাঈম নানার বাড়িতে থেকে চরজব্বর ইউনিয়নের দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত।
স্বজনদের দাবি, প্রায় ২০-২৫ দিন আগে নাঈমের মা সুমি আক্তার দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ নিয়ে সাবেক স্ত্রী সুমির ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন ইব্রাহীম খলিল। তিনি বিভিন্ন সময় হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন বলেও পরিবারের সদস্যরা জানান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মায়ের দ্বিতীয় বিয়েকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে ইব্রাহীম খলিল নাঈমকে নানার বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ বাড়ির কাছের ধানক্ষেতের পাশে ফেলে রেখে যান।
নোয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আহমেদ পেয়ার বলেন, বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত ইব্রাহীম খলিলকে কৌশলে আটক করা হয়। পরে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি ছেলের হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
তিনি আরও জানান, শুক্রবার বিকেলে ইব্রাহীম খলিলকে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। সেখানে তিনি ছেলেকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার।
হত্যাকাণ্ডের পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং এতে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।