তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রত্যাশার বাংলাদেশ, জাতির স্বপ্নপূরণের নতুন অধ্যায়

মতামত

বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার ইতিহাস। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের মানুষ বারবার এমন একটি রাষ্ট্রের

2026-09-22T16:01:56+00:00
2026-09-22T16:08:40+00:00
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১১ আশ্বিন ১৪৩৩
 
শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মতামত
তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রত্যাশার বাংলাদেশ, জাতির স্বপ্নপূরণের নতুন অধ্যায়
—মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০১ পিএম  আপডেট: ২২.০৯.২০২৬ ৪:০৮ পিএম
সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাস দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ, স্বপ্ন ও প্রত্যাশার ইতিহাস। স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের মানুষ বারবার এমন একটি রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছে, যেখানে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষ কথা বলার স্বাধীনতা পাবে, তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং সাধারণ মানুষ রাষ্ট্রের কাছে মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচতে পারবে। কিন্তু নানা রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অর্থনৈতিক বৈষম্য, দুর্নীতি, সুশাসনের ঘাটতি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার কারণে সেই প্রত্যাশার বাংলাদেশ এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০২৬ সাল একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে বিতর্ক এবং ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের পর অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়। সেই নির্বাচনের পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বে নতুন সরকারের প্রতি জনগণের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনের একটি বড় প্রত্যাশাও রয়েছে। নির্বাচনী প্রচারে তিনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করা, জবাবদিহি বৃদ্ধি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির মতো বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। একই সঙ্গে দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড,কৃষকের জন্য কৃষি কার্ড এবং তৈরি পোশাকের বাইরে অন্যান্য শিল্প খাত সম্প্রসারণের অঙ্গিকার করেছেন।

এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের মানুষের একটি বড় অংশ নতুন রাজনৈতিক প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিকে। তাঁকে ঘিরে প্রত্যাশা কেবল একজন রাজনৈতিক নেতাকে ঘিরে নয়; বরং একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি, একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং একটি মানবিক, জবাবদিহিমূলক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

প্রধানমন্ত্রীর সামনে তাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ রাষ্ট্র পরিচালনার একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করা,সেই দৃষ্টান্ত স্থাপনের কাজটি ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। জনগণের প্রত্যাশা, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ নির্মাণের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেবেন যেখানে রাষ্ট্র কোনো ব্যক্তি বা দলের একক সম্পত্তি হবে না; রাষ্ট্র হবে জনগণের, সরকার হবে জনগণের সেবক এবং সংবিধান ও আইনের শাসন হবে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল ভিত্তি।

একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার প্রথম শর্ত গণতন্ত্র। গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনের দিন ভোট দেওয়ার নাম নয়; গণতন্ত্র হলো মানুষের মতপ্রকাশের অধিকার, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ, বিরোধী মতের প্রতি সম্মান এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার নিশ্চয়তা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘ সংগ্রাম হয়েছে। বহু মানুষ জীবন দিয়েছেন,গুম হয়েছে,নির্যাতন সহ্য করেছেন, কারাবরণ করেছেন। তাই জনগণের প্রত্যাশা বাংলাদেশ হবে জনগণের বাংলাদেশ; যেখানে ন্যায়বিচার, সুশাসন, সমতা ও সকল নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।  

তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় গণতন্ত্রকে শুধু রাজনৈতিক স্লোগান হিসেবে নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে বাস্তবায়ন করবেন। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার অঙ্গিকার এবং জনগণের রাজনৈতিক অধিকারকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে। কারণ একটি রাষ্ট্র তখনই সত্যিকার অর্থে শক্তিশালী হয়, যখন তার নাগরিক রাষ্ট্রকে ভয় করে না; বরং রাষ্ট্রের ওপর আস্থা রাখে। ইতোমধ্যে মানুষ রাষ্ট্রের ওপর তাদের আস্থার প্রতিফলন দেখছে।  

সুন্দর বাংলাদেশের আরেকটি মৌলিক শর্ত হলো আইনের শাসন। আইন সবার জন্য সমান এই নীতির বাস্তব প্রয়োগ ছাড়া কোনো রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। মানুষ এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চায়, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক অবস্থান, সামাজিক প্রভাব কিংবা ক্ষমতার সঙ্গে সম্পর্ক বিচার পাওয়ার পথে বাধা হবে না। অপরাধী যদি ক্ষমতাবানও হয়, তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হবে; আর নিরপরাধ মানুষ যেন কোনো হয়রানি বা অন্যায়ের শিকার না হয়। আইনের শাসন নিশ্চিত করতে সবার জন্য একই মানদণ্ড প্রয়োগ হওয়াই নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির অন্যতম ভিত্তি।

একটি বিচারব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় পরিবেশ তৈরি হবে যেখানে বিচার হবে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী হবে জনগণের নিরাপত্তার প্রতিষ্ঠান, কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার নয়। রাষ্ট্রের শক্তি আসলে তার অস্ত্রে নয়, তার ন্যায়বিচারে। যে রাষ্ট্র তার নাগরিককে ন্যায়বিচারের নিশ্চয়তা দিতে পারে, সেই রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ হয়।
 
বাংলাদেশ নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে যা জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন। তবে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়তে হলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে সমানভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়া জরুরি। বাংলাদেশের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধাগুলোর একটি দুর্নীতি। দুর্নীতি শুধু সরকারি অর্থের অপচয় করে না; এটি মানুষের আস্থা নষ্ট করে, বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত করে, প্রশাসনের দক্ষতা কমিয়ে দেয় এবং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের বিশ্বাস দুর্বল করে। তাই জনগণের প্রত্যাশা দুর্নীতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার পাশাপাশি কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। রাষ্ট্রীয় অর্থের প্রতিটি ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সরকারি প্রকল্পে অপচয় ও অনিয়ম বন্ধ করতে হবে। 

প্রশাসনে আন্ত ক্যাডার বৈষম্য উন্নয়নের বড় অন্তরায় তা রোধ করতেই হবে,নিয়োগ,সুষম পদোন্নতি ও সরকারি সেবায় যোগ্যতা ও মেধাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণ এমন সরকার চায় এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে দুর্নীতি করার সুযোগই সীমিত হয়ে আসবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হবে শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক।

অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান তরুণদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার তরুণ জনগোষ্ঠী। কিন্তু এই তরুণ সমাজ যদি কর্মসংস্থানের অভাবে হতাশ হয়ে পড়ে, তাহলে দেশের জনসংখ্যাগত সম্ভাবনা সংকটে পরিণত হতে পারে। আজকের তরুণ শুধু চাকরি চায় না; সে উদ্যোক্তা হতে চায়, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা করতে চায়, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষতা নিয়ে প্রবেশ করতে চায়। সে চায় তার মেধা ও শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন।

তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশা হলো ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে কর্মসংস্থানকে রাষ্ট্রীয় নীতির কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসা হবে। কারিগরি শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃষিভিত্তিক শিল্প, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং নতুন অর্থনীতির সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে।

একজন তরুণ যেন শুধু সরকারি চাকরির পেছনে ছুটতে বাধ্য না হয় বরং নিজের কর্মসংস্থান নিজেই তৈরি করতে পারে, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা প্রয়োজন। দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হলে শুধু বড় অবকাঠামো নির্মাণ যথেষ্ট নয়। মানুষের আয় বাড়াতে হবে, উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হবে, ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতে হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর  রাষ্ট্রের উন্নয়নের সংজ্ঞায় সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কারণ উন্নয়নের প্রকৃত মানদণ্ড বড় বড় ভবন নয়; বরং মানুষের জীবন কতটা নিরাপদ, স্বচ্ছল ও মর্যাদাপূর্ণ হয়েছে সেটিই আসল প্রশ্ন।

একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর। বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা চায় যেখানে চিকিৎসা পাওয়া মানুষের ভাগ্যের ওপর নির্ভর করবে না। প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষও যেন মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে শিক্ষা হতে হবে জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতার সমন্বিত ভিত্তি। শিক্ষাব্যবস্থাকে শুধু পরীক্ষামুখী না করে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর  করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বাড়াতে হবে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যকে রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের বোঝা হিসেবে নয়, বরং জাতীয় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

একটি সভ্য ও সুন্দর রাষ্ট্রের অন্যতম পরিচয় হলো সেখানে নারী কতটা নিরাপদ ও সম্মানিত। নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণ আরও বিস্তৃত করতে হবে। নারীর প্রতি সহিংসতা, হয়রানি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার ও সমাজে নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করার জন্য সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। রাষ্ট্রের উন্নয়নের অর্ধেক অংশীদার নারী। তাই নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া কোনো উন্নয়নই পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না।

বাংলাদেশের তরুণরা পুরোনো রাজনৈতিক সংঘাত, প্রতিহিংসা ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। তারা চায় এমন রাজনীতি, যেখানে মতভেদ থাকবে কিন্তু শত্রুতা থাকবে না; প্রতিযোগিতা থাকবে কিন্তু সহিংসতা থাকবে না। তারেক রহমানের সামনে এই জায়গায় একটি ঐতিহাসিক সুযোগ রয়েছে। তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের জন্য একটি ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতির ভিত্তি গড়ার কাজ করে যাচ্ছেন।

রাজনীতিতে যোগ্যতা, সততা, দেশপ্রেম ও জনসম্পৃক্ততাকে মূল্যায়নের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। দলীয় পরিচয়ের বাইরে রাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ রাষ্ট্র কোনো দলের একার নয়। সরকার পরিবর্তিত হয়, রাজনৈতিক নেতৃত্ব পরিবর্তিত হয়, কিন্তু বাংলাদেশ থেকে যায়। তাই দেশের স্বার্থকে সব রাজনৈতিক স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়াই হবে দায়িত্বশীল নেতৃত্বের পরিচয়।
 
বাংলাদেশের রাজনীতি দীর্ঘদিন ধরে বিভাজনের রাজনীতিতে ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। এই বিভাজন থেকে বেরিয়ে জাতীয় ঐক্যের পথে এগিয়ে যাওয়া এখন সময়ের দাবি। তারেক রহমানের এমন একটি রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন যেখানে ভিন্নমতকে শত্রু হিসেবে দেখা হবে না। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ থাকবে, কিন্তু রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করে প্রতিহিংসা থাকবে না। জাতীয় ঐক্য মানে সবাই একই মতের হবে এমন নয়। বরং ভিন্নমতের মানুষও যেন একই রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে নিরাপদ ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, সেটিই প্রকৃত জাতীয় ঐক্য।
 
বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, ডিজিটাল অর্থনীতি ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ভবিষ্যতের বিশ্বকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে। বাংলাদেশও এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে শুধু শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞান ও দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা, নদী ও পরিবেশ রক্ষা, নগর ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়নকে জাতীয় নীতির অংশ করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে; যার নাগরিক বিদেশে গিয়ে শুধু শ্রমিক হিসেবে নয়, বিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, গবেষক ও দক্ষ পেশাজীবী হিসেবে নিজের পরিচয় তুলে ধরবে।

প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা যত বড়, তাঁর দায়িত্বও তত বড়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে শুধু রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন সততা, দূরদর্শিতা, ধৈর্য এবং সর্বোপরি জনগণের প্রতি জবাবদিহি প্রকাশমান। নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা হয় ক্ষমতার বাইরে নয়, ক্ষমতার ভেতরে। বিরোধী অবস্থানে সরকারের সমালোচনা করা তুলনামূলক সহজ; কিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনার সময় একই নীতি, একই সততা ও একই জবাবদিহি বজায় রাখা অনেক কঠিন। এই কঠিন কাজটাই করছেন তিনি ।

জনগণ দেখতে চায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে, যেখানে ব্যক্তি নয় প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী হবে; দল নয় রাষ্ট্র হবে সর্বোচ্চ; ক্ষমতা নয় জনগণের কল্যাণ হবে রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য।
 
মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চায়, যেখানে সত্য কথা বলার জন্য ভয় পেতে হবে না; ন্যায়বিচারের জন্য কারও দরজায় কড়া নাড়তে হবে না; সরকারি সেবা পেতে ঘুষ দিতে হবে না এবং রাজনৈতিক পরিচয় কারও অধিকার পাওয়ার পথে বাধা হবে না। এই স্বপ্নের বাংলাদেশ নির্মাণের প্রত্যাশা আজ তারেক রহমানের কাছে এদশের মানুষের। সেই প্রত্যাশা কোনো ব্যক্তির প্রতি অন্ধ আনুগত্যের প্রত্যাশা নয়; এটি একটি সুন্দর রাষ্ট্রের প্রত্যাশা, একটি জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রত্যাশা, একটি মানবিক সমাজের প্রত্যাশা।

তারেক রহমান জনগণের প্রত্যাশাকে হৃদয়ে ধারণ করে এগিয়ে যচ্ছেন, তিনি ক্ষমতার চেয়ে দায়িত্বকে বড় করে দেখেন, দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে জাতীয় স্বার্থকে স্থান দেন, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূল দর্শন মনে করেন। এভাবেই সুচনা হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের।

বাংলাদেশের মানুষ কোনো অলীক স্বপ্ন চায় না। তারা চায় একটি স্বাভাবিক, নিরাপদ, গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন। তারা চায় এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে রাষ্ট্র হবে মানুষের, সরকার হবে সেবার প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতি হবে দেশ ও মানুষের কল্যাণের মাধ্যম। সেই প্রত্যাশার বাংলাদেশ নির্মাণের দায়িত্ব আজকের রাজনৈতিক নেতৃত্বের। আর সেই দায়িত্বের অন্যতম বড় কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তারেক রহমান।

ইতিহাস কোনো নেতাকে শুধু তাঁর বক্তৃতার জন্য মনে রাখে না; ইতিহাস মনে রাখে তিনি তাঁর সময়ের মানুষের জন্য কী রেখে গেছেন। তাই সময়ের দাবি একটাই বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিশ্রুতির চেয়ে বাস্তব কাজ, বিভাজনের চেয়ে ঐক্য, প্রতিহিংসার চেয়ে ন্যায়বিচার এবং ক্ষমতার চেয়ে জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।


বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তি এখনো কৃষি ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল। অথচ কৃষক অনেক সময় তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। গ্রামবাংলার মানুষের জীবনমানের উন্নয়নও। কৃষকের জন্য ন্যায্যমূল্য, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, সহজ ঋণ, সংরক্ষণ ও বাজারব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ সেই দিনের অপেক্ষায় যেদিন একজন তরুণ নিজের মেধা দিয়ে নিজের ভাগ্য গড়তে পারবে, একজন কৃষক নিজের উৎপাদনের ন্যায্য মূল্য পাবে, শ্রমিক পাবে সম্মানজনক মজুরি, রোগী পাবে চিকিৎসা, শিক্ষার্থী পাবে মানসম্মত শিক্ষা, নারী পাবে নিরাপত্তা ও মর্যাদা এবং নাগরিক পাবে তার মৌলিক অধিকার। একজন সাধারণ নাগরিক রাষ্ট্রের সামনে মাথা নত না করে গর্বের সঙ্গে বলতে পারবে ‘এই দেশ আমার, এই রাষ্ট্র আমার, এই বাংলাদেশ আমার।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরেই সুন্দর বাংলাদেশের সেই স্বপ্নই হোক আগামী দিনের রাজনীতির মূল অঙ্গীকার। আর জনগণের সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরীক্ষায় তাঁর নেতৃত্ব কতটা সফল হবে তার উত্তর দেবে সময়, ইতিহাস এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের জনগণ।

মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সিনিয়র তথ্য অফিসার, তথ্য অধিদফতর, ০১৭১২-০০৮৯৮১




Loading...
Loading...

মতামত- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: