রাজধানীর মিরপুরের ভাষানটেক বাজারের কাছে ১৩ বছরের সাগর হোসেনকে পাওয়া গিয়েছিল ডাস্টবিনের পাশে। সুনামগঞ্জ থেকে ছয় মাস আগে বাবার সঙ্গে ঢাকায় এসেছে। স্কুল ছেড়ে ময়লা বাছাইয়ের কাজ কেন করছে- এই প্রশ্নের উত্তরে সাগরের সহজ উত্তর, ‘‘আয়পাতি না থাকলে খামু কী আর পরমু কী!’’ গ্রামে কাজ নেই, তাই বাবা-ছেলে ঢাকায় এসেছে। ঢাকায় এসে ময়লা থেকে জিনিস বাছাইয়ের কাজ পেয়েছে সাগর।
সাগর একা নয়। তার ঘটনা আদতে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার বড় অন্ধকার কাহিনি। স্কুলের খাতায় সে হয়তো আর একজন শিক্ষার্থী নয়, কিন্তু দেশের ভবিষ্যতের হিসাবেও কি তাকে আর ধরা হচ্ছে? এই প্রশ্নটি আরও জরুরি হয়ে উঠেছে, কারণ দীর্ঘ ১৪ বছর কমার পর বাংলাদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ার হার আবার বেড়েছে। ২০২৩ সালে যে হার ছিল ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশ, ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রাথমিক শিক্ষার চক্র শেষ করার আগেই প্রতি ছয়জনের একজনের বেশি শিশু শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ছিটকে পড়ছে।
এটা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, এর ভেতরে আছে সাগরের মতো অসংখ্য শিশুর হারিয়ে যাওয়া শৈশব।
ভর্তির সাফল্যের পরও কেন এই ব্যর্থতা?
বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় গত কয়েক দশকের অগ্রগতি অস্বীকার করার উপায় নেই। ২০২০ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৭ শতাংশের বেশি, ২০২৩ সালে তা ১৩ দশমিক ১৫ শতাংশে নেমেছিল। বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীর সংখ্যাও সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। ২০২৪ সালে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ৮৩ হাজারে। এক বছরে বিদ্যালয়ও বেড়েছে প্রায় চার হাজার। কিন্তু বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থী বাড়ার বিপরীতে ঝরে পড়া বেড়ে যাওয়া আমাদের পুরোনো সাফল্যের ধারণাটিকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।
আরও উদ্বেগের বিষয়, এই পতনের বোঝা ছেলেদের ওপর বেশি। ২০২৩ সালে ছেলেদের dropout ছিল ১৪ দশমিক ১২ শতাংশ; ২০২৪ সালে তা বেড়ে ১৯ দশমিক ০২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। মেয়েদের হার ১২ দশমিক ৩২ থেকে বেড়ে হয়েছে ১৩ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
কেন ছেলেরা বেশি ঝরে পড়ছে? এর একটি বড় উত্তর অর্থনীতি। মূল্যস্ফীতি ও পরিবারের আয়-সংকট অনেক পরিবারকে শিশুর পড়াশোনার চেয়ে তাৎক্ষণিক উপার্জনকে বেশি জরুরি করে তুলছে। সরকারি পরিসংখ্যানের বিশ্লেষণেও মূল্যস্ফীতি ও অল্প বয়সে শ্রমবাজারে প্রবেশের বিষয়টি উঠে এসেছে।
সাগরের কথাই তার সবচেয়ে নির্মম উদাহরণ।
ঝরে পড়া মানেই কি শিশুশ্রম!
সব ঝরে পড়া শিশু যে শিশুশ্রমে যায়, এমন সরল সিদ্ধান্ত অবশ্যই দেওয়া যাবে না। কেউ পরিবারের সঙ্গে অন্য এলাকায় চলে যায়, কেউ গৃহস্থালির কাজে আটকে যায়, কেউ আর কোনো শিক্ষায় ফিরে আসে না। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্যের সঙ্গে সাগরের মতো বাস্তব ঘটনাগুলো পাশাপাশি রাখলে সম্পর্কটি স্পষ্ট হয়।
বাংলাদেশের ২০২৫ সালের MICS অনুযায়ী, ৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৯ দশমিক ২ শতাংশ শিশু শিশুশ্রমে যুক্ত। ২০১৯ সালে এই হার ছিল ৬ দশমিক ৮ শতাংশ। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমের হার আরও বেশি। একই সঙ্গে স্কুলে না থাকা শিশুদের মধ্যে শিশুশ্রমের হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
অর্থাৎ স্কুল থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর শিশুর সামনে যে পথগুলো খুলে যায়, তার একটি বড় পথ শ্রমবাজার। সাগর সেই পথেই গেছে।
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন বুঝতে হবে। আগে প্রাথমিক শিক্ষায় মেয়েদের ঝরে পড়া নিয়ে আমাদের উদ্বেগ বেশি ছিল। এখন ছেলেদের dropout দ্রুত বাড়ছে। দারিদ্র্য, পরিবারের আয়-সংকট ও অল্প বয়সে কাজের সুযোগ- সব মিলিয়ে ছেলেশিশুরা দ্রুত শ্রমবাজারে ঢুকে পড়ছে। এটা শুধু শিক্ষার সমস্যা নয়, ভবিষ্যতের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির জন্যও বড় হুমকি।
বাংলাদেশের সব শিশুর স্কুলে থাকার সুযোগ এক নয়
জাতীয় গড় দিয়ে এই সংকট বোঝা যাবে না। ময়মনসিংহ, রংপুর ও সিলেটে ঝরে পড়ার হার তুলনামূলক বেশি। ময়মনসিংহের চারটি জেলাতেই হার ৩০ শতাংশের বেশি। নেত্রকোনায় তা ৪৪ শতাংশ পর্যন্ত। দারিদ্র্য ও দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থার সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বাস্তবতা আরও কঠিন। কাছাকাছি প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও মাধ্যমিক বিদ্যালয় অনেক দূরে। রাঙামাটির একজন শিশুর বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ের দূরত্ব ৩০ কিলোমিটার। তার তিন ভাইবোন প্রাথমিকের পরই পড়াশোনা বন্ধ করেছে। পার্বত্য এলাকায় প্রাথমিক শেষ করার পর ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ শিশু মাধ্যমিক শিক্ষায় যেতে পারে না।
অর্থাৎ কোনো শিশুর স্কুলে থাকা তার মেধার ওপর যতটা নির্ভর করে, অনেক ক্ষেত্রে তার জন্মস্থান, পরিবারের আয় ও বিদ্যালয়ের দূরত্বের ওপরও ততটাই নির্ভর করে।
এটাই শিক্ষায় বৈষম্যের সবচেয়ে নির্মম রূপ।
শুধু স্কুলে ভর্তি করলেই শিক্ষা হয় না
MICS 2025 আমাদের সামনে আরও বড় প্রশ্ন রেখেছে। প্রাথমিক বয়সী শিশুদের ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এখনো কোনো শিক্ষায় নেই। প্রাথমিকের adjusted net attendance ৮৫ শতাংশ হলেও নিম্নমাধ্যমিকে তা নেমে যায় ৬০ দশমিক ১ শতাংশে এবং উচ্চমাধ্যমিকে মাত্র ৫০ দশমিক ৮ শতাংশে। প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করতে পারে ৮৩ দশমিক ৭ শতাংশ শিশু। নিম্নমাধ্যমিকে ৬৯ দশমিক ৩ শতাংশ এবং উচ্চমাধ্যমিকে মাত্র ৪৩ দশমিক ৯ শতাংশ।
অর্থাৎ আমাদের বড় সাফল্য ছিল শিশুকে স্কুলে আনা, কিন্তু এখন বড় চ্যালেঞ্জ তাকে স্কুলে ধরে রাখা, শেখানো এবং পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়া।
এখানেই আসে ‘শেখার সংকট’।
৭ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মাত্র ৫০ দশমিক ২ শতাংশ মৌলিক পড়ার দক্ষতা এবং ৩৯ দশমিক ২ শতাংশ মৌলিক গণনাদক্ষতা অর্জন করেছে। অর্থাৎ স্কুলে উপস্থিত থাকা শিশুদের বড় একটি অংশও বয়স ও শ্রেণি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মৌলিক দক্ষতা অর্জন করছে না।
যে শিশু পড়া বুঝতে পারে না, গণিত করতে পারে না, বারবার পিছিয়ে পড়ে, তার কাছে স্কুল একসময় আনন্দের জায়গা না হয়ে ব্যর্থতার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। তাই dropout রোধের লড়াই একই সঙ্গে learning crisis মোকাবিলার লড়াই।
এর সঙ্গে আছে শিক্ষকসংকট। ২০২৪ সালে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৮৮৯ জন কমেছে। অনুমোদিত ৬৫ হাজার প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে ৩৪ হাজারের বেশি পদ শূন্য, সহকারী শিক্ষকেরও প্রায় সাড়ে ২৪ হাজার পদ খালি। শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত জাতীয়ভাবে ১:২৮ হলেও প্রত্যন্ত বিদ্যালয়ে বাস্তব চিত্র অনেক খারাপ।
তাহলে প্রশ্ন হলো, শিক্ষক নেই, প্রধান শিক্ষক নেই, শেখার ঘাটতি আছে- এমন বিদ্যালয়ে শিশু কেন টিকে থাকবে?
জলবায়ুও এখন শিশুর বই কেড়ে নিচ্ছে
দারিদ্র্য ও শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তন। UNICEF-এর হিসাবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ৩ কোটি ৫০ লাখ শিশুর শিক্ষা কোনো না কোনোভাবে জলবায়ুজনিত সংকটে ব্যাহত হয়েছে। তাপপ্রবাহ, ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় কোনো কোনো এলাকার শিশু আট সপ্তাহ পর্যন্ত শিক্ষার বাইরে ছিল।
২০২৪ সালের এপ্রিল-মে মাসে তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে দেশজুড়ে প্রায় দুই সপ্তাহ বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। এরপর ঘূর্ণিঝড় রিমাল ও জুনের ভয়াবহ বন্যা আরও বহু শিশুর পড়াশোনা ব্যাহত করেছে। ওই বন্যায় প্রায় ১ কোটি ৮৪ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যার মধ্যে ছিল প্রায় ৭০ লাখ শিশু।
একটি দরিদ্র পরিবারের শিশু যখন বন্যায় ঘর হারায়, তখন তার হাতে বই থাকার চেয়ে পরিবারের আয় টিকিয়ে রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকলে সে কাজে ঢোকে, পরে আর স্কুলে ফেরে না। জলবায়ু তাই এখন শুধু পরিবেশের সমস্যা নয়- শিক্ষারও সমস্যা।
স্কুলে ফেরার দরজা খোলা রাখতে হবে
ঝরে পড়া শিশুকে শুধু ‘ঝরে পড়া’ হিসেবে দেখলে চলবে না। তার জন্য দ্বিতীয় সুযোগ দরকার। বাংলাদেশে এমন উদ্যোগের উদাহরণ আছে। UNICEF ও সরকারের SKILFO কর্মসূচি ২০২৫ সালে জাতীয়ভাবে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়, এর লক্ষ্য ছিল স্কুলের বাইরে থাকা ও NEET কিশোর-কিশোরীদের মৌলিক সাক্ষরতা ও কর্মমুখী দক্ষতার সুযোগ দেওয়া। পাইলট পর্যায়ে প্রায় ৭ হাজার কিশোর-কিশোরী এতে যুক্ত হয়েছিল, জাতীয় সম্প্রসারণে ১৬ জেলায় এক লাখের বেশি কিশোর-কিশোরীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
এ ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যে শিশু একবার স্কুলের বাইরে গেছে, তার জন্য আগের স্কুলব্যবস্থায় হুবহু ফিরে যাওয়াই সব সময় বাস্তবসম্মত নয়। তার বয়স, কাজ, পারিবারিক অবস্থা ও শেখার ঘাটতি বিবেচনায় নমনীয় ‘second chance’ শিক্ষা দরকার।
খাবার ও উপবৃত্তি: প্রয়োজন, কিন্তু যথেষ্ট নয়
দরিদ্র পরিবারের শিশুদের স্কুলে ধরে রাখার জন্য উপবৃত্তি ও স্কুল ফিডিংয়ের মতো কর্মসূচির গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। MICS 2025-ও দেখাচ্ছে, দরিদ্র পরিবারের শিশুদের শিক্ষায় অংশগ্রহণ তুলনামূলক কম।
সরকার এখন আগামী বছর থেকে প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক শিক্ষার্থীকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে এবং প্রাথমিকের dropout শূন্যে নামানোর লক্ষ্য ঘোষণা করেছে।
এটা অবশ্যই স্বাগতযোগ্য। কিন্তু একটি কথা মনে রাখা দরকার- খাবার শিশুকে স্কুলে আনতে পারে, কিন্তু ভালো শিক্ষা তাকে স্কুলে ধরে রাখে।
তাই স্কুল ফিডিংয়ের সঙ্গে শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, নিরাপদ ও আকর্ষণীয় বিদ্যালয়, শেখার ঘাটতি পূরণ, মানসিক সহায়তা এবং অভিভাবকের সঙ্গে বিদ্যালয়ের নিয়মিত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
এখন দরকার ‘ড্রপআউট ট্র্যাকিং’
সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, একজন শিশু স্কুলে নেই- এই তথ্য আমরা অনেক সময় পরে জানতে পারি। তার আগে তার অনুপস্থিতি, শ্রেণি পুনরাবৃত্তি, শেখার ঘাটতি, পরিবারের দারিদ্র্য, শিশুশ্রমের ঝুঁকি বা দুর্যোগে বাস্তুচ্যুতি শনাক্ত করা যায় না।
প্রতিটি বিদ্যালয়ে তাই Early Warning System চালু করা দরকার। টানা কয়েক দিন অনুপস্থিতি, বারবার পরীক্ষায় ব্যর্থতা, শ্রেণি পুনরাবৃত্তি, পরিবারের আর্থিক সংকট বা শিশুর কাজ শুরু করার খবর পেলেই বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে সক্রিয় হতে হবে।
কারণ শিশু স্কুল থেকে হারিয়ে যাওয়ার পর তাকে খোঁজা নয়, হারিয়ে যাওয়ার আগেই তাকে ধরে রাখা হচ্ছে আধুনিক শিক্ষানীতির কাজ।
আর একটি জাতীয় Child Education Tracking System দরকার, যাতে একজন শিশু কোথা থেকে স্কুলে ঢুকল, কোথায় অনুপস্থিত হলো, কেন বেরিয়ে গেল এবং পরে কোথায় গেল- তার একটি নিরাপদ, গোপনীয় ও সমন্বিত তথ্য থাকে। কারণ আজও ‘ঝরে পড়া শিশুরা ঠিক কোথায় যায়’- এই প্রশ্নের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় উত্তর আমাদের হাতে নেই।
লক্ষ্য শূন্য dropout- কিন্তু পথটি হতে হবে বাস্তব
২০২৬ - ২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জন্য ৪৬ হাজার ৭৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন এই অর্থের ব্যবহার কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটাই বড় প্রশ্ন।
সরকার dropout শূন্যে নামানোর লক্ষ্য নিয়েছে। লক্ষ্যটি উচ্চাভিলাষী, কিন্তু প্রয়োজনীয়। তবে শুধু ঘোষণা দিয়ে শূন্য dropout অর্জন করা যাবে না।
দরিদ্র পরিবারের শিশুর জন্য পর্যাপ্ত ও মূল্যস্ফীতিসম্মত উপবৃত্তি, সর্বজনীন ও পুষ্টিকর স্কুল ফিডিং, দুর্গম এলাকায় আবাসিক বা পরিবহন সুবিধা, পার্বত্য ও চরাঞ্চলে মাধ্যমিক শিক্ষার সুযোগ, শূন্য শিক্ষকপদ দ্রুত পূরণ, শেখার ঘাটতি পূরণে বিশেষ ক্লাস, ঝরে পড়াদের জন্য দ্বিতীয় সুযোগের শিক্ষা এবং জলবায়ু-সহনশীল বিদ্যালয়- সবকিছু একসঙ্গে করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, শিক্ষা, শ্রম, সমাজকল্যাণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও স্থানীয় সরকারকে একই লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। কারণ একজন শিশু যখন স্কুল থেকে ঝরে পড়ে, তখন শুধু শিক্ষা মন্ত্রণালয় একজন শিক্ষার্থী হারায় না, রাষ্ট্র হারায় একজন সম্ভাব্য দক্ষ নাগরিক।
সাগর বলেছিল, ‘আয়পাতি না থাকলে খামু কী আর পরমু কী!’ তার কথার মধ্যে বাংলাদেশের দরিদ্র পরিবারের বাস্তবতা আছে। রাষ্ট্রের কাজ হওয়া উচিত এমন পরিস্থিতি তৈরি করা, যেখানে কোনো বাবা-মাকে সন্তানের খাবার আর বইয়ের মধ্যে একটিকে বেছে নিতে না হয়।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দরজা আমরা অনেক শিশুর জন্য খুলেছি। এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো- সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করা কোনো শিশুকে যেন মাঝপথে হারিয়ে যেতে না দেওয়া।
কারণ একজন শিশু স্কুল থেকে ঝরে পড়া মানে শুধু একটি খাতা বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়, একটি সম্ভাবনাময় ভবিষ্যতের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়া।