রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গণঅবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট রংপুর জেলা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রংপুর প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচিতে সিপিবি জেলা সভাপতি ভাষাসৈনিক বীর মুক্তিযোদ্ধা কমরেড শাহাদত হোসেন, এডভোকেট রোকুনুজ্জামান রোকন, মহানগর সভাপতি এডভোকেট রাতুজ্জামান রাতুল, বাসদ (মার্ক্সবাদী) জেলা আহ্বায়ক কমরেড আনোয়ার হোসেন, সদস্যসচিব আহসানুল আরেফিন তিতু, বাংলাদেশ জাসদ জেলা সভাপতি শাহীনুর রহমান, সমাজতান্ত্রিক ক্ষেতমজুর ও কৃষক ফ্রন্টের সাধারণ সম্পাদক অমল সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা বাসদের সদস্যসচিব মমিনুল ইসলামের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক ও বাসদ আহ্বায়ক কমরেড আব্দুল কুদ্দুস।
কর্মসূচিতে বক্তারা অভিযোগ করেন, একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুর নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, সম্প্রতি মাছুয়াপাড়ায় নিজ বাড়িতে রংপুর জেলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডে একটি পরিবার পুরোপুরি নিঃশেষ হয়ে গেছে।
নেতারা বলেন, এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ডোপ টেস্টে মাদক গ্রহণের প্রমাণ না পাওয়ার দাবি করে তারা পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সব মোটিভ বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করা হয়নি। পাশাপাশি পুলিশের উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলের আলামত নষ্ট হওয়ার বিষয়েও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এসব কারণে পুলিশের তদন্ত জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারিয়েছে বলেও দাবি করেন বক্তারা।
যুক্তফ্রন্টের সমন্বয়ক আব্দুল কুদ্দুস বলেন, রংপুর শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাদকের বিস্তার ঘটেছে। মাদক সরবরাহের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও তাদের পৃষ্ঠপোষকদের চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া গেলে এ ধরনের অপরাধের পুনরাবৃত্তি কমানো সম্ভব।
তিনি বলেন, রংপুরসহ সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও মাদকের কারণে মানুষের নিরাপদ জীবনযাপন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং সব ধরনের অপরাধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটির তত্ত্বাবধানে তদন্ত এবং প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।
আব্দুল কুদ্দুস আরও বলেন, দাবি পূরণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার রংপুরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।