চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ী ও তার বন্ধুকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিসহ ১৮ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে পুলিশের কয়েক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তাদের মধ্যে এক সহকারী কমিশনারকে (এসি) দামপাড়া পুলিশ সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে দুই সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) ক্লোজড করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী। তিনি বলেন, “এ ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, প্রমাণ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রত্যাহার হওয়া কর্মকর্তা হলেন সিএমপির ল’ফুল ইন্টারসেপ্টেড সেলের (এলআইসি) সহকারী কমিশনার শরিফুল আলম সুজন। ক্লোজড হওয়া দুই এএসআই হলেন এলআইসির বাছির উদ্দিন ও রেশন স্টোরের আবু সুফিয়ান।
সিএমপি সূত্রে জানা যায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর সকালে এসি শরিফুল আলমের নেতৃত্বে সাদা পোশাকে একদল পুলিশ হালিশহরের কে ব্লকের একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী আখতারুজ্জামান শাকিল (২৭) ও তার বন্ধু মনসুর আলীকে তুলে নেয়। পরে একটি টয়োটা করোলা গাড়িসহ তাদের সিএমপির এলআইসি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তাদের মোবাইল ফোন জব্দ করে ব্যক্তিগত তথ্য ও ছবি অন্য একটি ডিভাইসে স্থানান্তর করা হয়।
ভুক্তভোগী শাকিলের অভিযোগ, ব্যক্তিগত ছবি ফাঁস করে দেওয়া এবং তাদের জুয়া মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয় দেখান এসি শরিফুল ও এএসআই বাছির। একপর্যায়ে তাকে বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে তিন দফায় ১০ হাজার ৮৬৪ মার্কিন ডলার স্থানান্তর করতে বাধ্য করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৩ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
শাকিলের আরও অভিযোগ, ওই দিন রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে তিন কনস্টেবল তাকে সিএমপির কাছাকাছি একটি ব্যাংকের বুথে নিয়ে যান। সেখানে পাঁচ দফায় মোট ৪ লাখ টাকা তুলতে বাধ্য করা হয়।
এ ছাড়া এলআইসি কার্যালয়ে থাকা অবস্থায় একটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের অ্যাকাউন্ট থেকেও ৮০ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
দুই ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তারা একটি সাদা কাগজে তাদের নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে তাতে সই নেন। পরে তাদের ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই দিন রাত ১২টার দিকে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
তাদের আরও অভিযোগ, পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর রাতে তাদের প্রাইভেট কার ফেরত দেওয়া হলেও এ সময় আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অভিযোগের সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।