চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা না দেওয়ার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটি। আন্দোলনকারীরা বলছেন, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই দুটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে তা জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হবে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নগরের বারিক বিল্ডিং এলাকা থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে বন্দরের দিকে যায়। পৌনে ১২টার দিকে মিছিলটি চট্টগ্রাম বন্দরের ২ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশের অনুরোধে সেখানেই কর্মসূচি শেষ করেন আন্দোলনকারীরা।
এর আগে বারিক বিল্ডিং এলাকায় আয়োজিত সমাবেশে বিভিন্ন স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। আন্দোলনকারীরা ‘মা মাটি মোহনা বিদেশিদের দেব না’, ‘আমার মাটি আমার মা বিদেশিদের দেব না’, ‘দুনিয়ায় মজদুর এক হও লড়াই করো’ এবং ‘বাধা আসবে যেখানে লড়াই হবে সেখানে’সহ নানা স্লোগান দেন।
সমাবেশে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত সিসিটি ও এনসিটি কোনো দেশি বা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়া উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর সোনার ডিম পাড়া হাঁস। সোনার ডিম নয়, পুরো হাঁসটিই খেয়ে ফেলতে চায়।’ তাই বন্দরের সম্পদ ও পরিচালনা নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের স্বার্থ এবং জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
দেলোয়ার মজুমদার আরও বলেন, তাদের এই আন্দোলন সরকারবিরোধী কোনো কর্মসূচি নয়। জনগণের স্বার্থে সরকারকে জনগণের দিকে টেনে আনার আন্দোলন এটি।
পুলিশের অনুরোধে বন্দরের ২ নম্বর গেটের সামনে মিছিল শেষ করার কথা জানিয়ে আন্দোলনকারীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। আগামী ৫ অক্টোবর চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের গেটের সামনে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোর পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তাদের দাবি, এনসিটি ও সিসিটি ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ করে বন্দরের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এসব টার্মিনাল পরিচালনা করতে হবে।