যতক্ষণ পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হচ্ছে, ততক্ষণ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নির্বাচনে অংশ নেওয়া কিংবা কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার নেই।
আজ শুক্রবার বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড চালাতে দেওয়া কিংবা নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বিব্রতবোধ করেন। আইন অনুযায়ী, তাদের সভা-সমাবেশ করা বা দলীয় কার্যালয় খোলার সুযোগ নেই। বিগত শাসনামলে দেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান ম্যান্ডেট হলো পাঁচটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা। এ জন্য বাজেটে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আইনি পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সংশোধিত আইনে এবার দলীয় মনোনয়ন বা জাতীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না। নির্বাচন হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে এবং সাধারণ প্রতীকে। মাঠপর্যায়ে দলের চেইন অব কমান্ড ঠিক রাখতে বিএনপি একক প্রার্থীকে সমর্থনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী থাকলে স্থানীয় পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা করা হবে। অন্যথায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া-২ আসনের শিবগঞ্জ উপজেলায় দিনভর নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন মীর শাহে আলম। শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াতের সুবিধার্থে গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং বেতগাড়ি মীর শাহে আলম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে দুটি স্কুল বাস বিতরণ করেন তিনি। দুর্ঘটনায় পা হারানো মেধাবী শিক্ষার্থী মাহফুজকে কৃত্রিম পা উপহার দিয়ে তার সার্বিক দায়িত্ব নেওয়ার কথাও জানান তিনি।