বগুড়ার শাজাহানপুরে পুকুরের পাড় ঘেঁষে নির্মিত শাহনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি আধাপাকা ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভবনের নিচ থেকে মাটি সরে গিয়ে বড় ফাঁকা তৈরি হওয়ায় যেকোনো সময় সেটি পুকুরে ধসে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটির বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা না থাকায় সেখানেই চলছে পাঠদান। ফলে প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়েই ক্লাস করতে হচ্ছে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীদের। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২১০ জন ছাত্রী এবং ১৫ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় শাহনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ২০০০ সালে স্থানীয় দাতা ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অর্থায়নে পুকুরের পাড় থেকে মাত্র ছয় ফুট দূরে চার কক্ষের আধাপাকা ভবনটি নির্মাণ করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে ভবনের পাশে কোনো গাইড ওয়াল না থাকায় পুকুরের পানির চাপে ধীরে ধীরে ভবনের নিচের মাটি সরে যেতে থাকে। একপর্যায়ে ভবনের তলদেশে বড় ধরনের ফাঁকা তৈরি হয়। বর্তমানে ভবনটির স্থায়িত্ব নিয়েই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পুকুরের পাড় ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে আধাপাকা শ্রেণিকক্ষ ভবনটি। ভবনের নিচের মাটি সরে গিয়ে সেখানে বড় ফাঁকা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থার মধ্যেই শ্রেণিকক্ষে বসে পাঠ নিচ্ছে ছাত্রীরা।
সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, ভবনের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় ক্লাস করার সময় সবসময় ভয় লাগে। পুকুরের পাড়ে বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড়ের পাশাপাশি সাপ ও বিচ্ছুও দেখা যায়। এসব প্রাণী ও পোকামাকড় কখনো কখনো শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ায় আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়।
অষ্টম শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি, জোঁকসহ বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ঢুকে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাদের আশঙ্কা, যেকোনো সময় ভবনটি পুকুরে ধসে পড়তে পারে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ফজলুল বারী বলেন, ভবনটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। পুকুর মালিককে পাড় বাঁধার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ করা না হলে ভবনটি ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তবে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পুকুর মালিক আজিজার রহমান। তাঁর দাবি, স্কুলের জায়গাটি আগে ধানক্ষেত ছিল। ভবন নির্মাণের সময় পর্যাপ্ত জায়গা রাখা হয়নি। ভবন তৈরির কারণে পুকুরের পানি নিষ্কাশনের ড্রেনও বন্ধ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, শাহনগর হাটের পানিও ওই এলাকায় এসে জমা হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় মাটি ধসে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে হাটের কিছু অংশও পুকুরে ধসে পড়েছে।
শাজাহানপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাইফুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকেরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান অব্যাহত রাখা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
তাদের দাবি, দ্রুত গাইড ওয়াল নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের জায়গা ও পুকুরের অংশ আলাদা করা, পুকুরপাড়ের মাটি সংরক্ষণ এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে বিকল্প শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করতে হবে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।