কারাবন্দী সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে হাটহাজারীর মেখলে অবস্থিত পুণ্ডরীক ধামে যান তিনি।
চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রানী ধর (৭২) বৃহস্পতিবার সকালে পুণ্ডরীক ধামে মারা যান। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারের পক্ষ থেকে প্যারোলের আবেদন করা হলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক পাঁচ ঘণ্টার জন্য চিন্ময়ের প্যারোল মঞ্জুর করেন।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ জানান, প্যারোলের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর বিকেল ৪টার দিকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দেওয়া হয়। এরপর তিনি পুণ্ডরীক ধামে গিয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন।
ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন চিন্ময়। পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছে তিনি প্রথমে মন্দিরে যান। পরে মায়ের মরদেহের সামনে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
এদিকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে চিন্ময়ের অনুসারী ও ভক্তরা পুণ্ডরীক ধামে অবস্থান নেন। শেষকৃত্যকে কেন্দ্র করে পুণ্ডরীক ধাম ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ৩১ অক্টোবর চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় তাঁরসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
চিন্ময়ের জামিনকে কেন্দ্র করে ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রামে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় তাঁর বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন।
সম্প্রতি দুই মামলায় চিন্ময়ের জামিন হলেও অন্য মামলা থাকায় তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পাননি। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় এবার তাঁকে পাঁচ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।