বগুড়ার নন্দীগ্রামে বসতবাড়িতে ইয়াবার কারবার চালানোর অভিযোগে দুই নারীকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে বাড়ির আশপাশে সিসিটিভি ক্যামেরা বসিয়ে নজরদারি করতেন তারা। অভিযানের খবর পেলেই সিসিটিভির মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি জেনে মাদক সরিয়ে ফেলা হতো বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
শনিবার নন্দীগ্রাম পৌরসভার ওমরপুর-বিষ্ণপুর মহল্লায় পৃথক দুটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ১০৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির টাকা উদ্ধার করা হয়। এ সময় দুই নারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে সিসিটিভিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত দুই পুরুষ দেয়াল টপকে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
গ্রেপ্তার দুই নারী হলেন ওমরপুর-বিষ্ণপুর মহল্লার মাদক কারবারি আয়নাল হকের স্ত্রী সকেরা আক্তার মিম (৩০) এবং রনি আহমেদ আরিফ রব্বানীর স্ত্রী রশিদা খাতুন (৩২)।
ডিএনসি সূত্র জানায়, দুই নারীর হেফাজত থেকে মোট ১০৪ পিস ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় নন্দীগ্রাম থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক মামলা করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার মিমের দাবি, তাঁর স্বামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং মাঝেমধ্যে ইয়াবা সেবন করেন। বাড়িতে চোরের উপদ্রব থাকায় চারপাশের নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. শামসুল আলম বলেন, ডিএনসির উপপরিদর্শক শামীমা আক্তারের নেতৃত্বে একই মহল্লার দুটি বাড়িতে মাদকবিরোধী অভিযান চালানো হয়। অভিযানে দুই নারীকে গ্রেপ্তার এবং ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকা জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পাশাপাশি পলাতক দুই স্বামীও দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধেও নন্দীগ্রাম থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।
অভিযানের সময় পলাতক দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।