ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সড়ক দুর্ঘটনায় তিন বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। ঘুরতে বের হয়ে বাড়ি ফেরার পথে অজ্ঞাত একটি বাসের চাপায় মোটরসাইকেলে থাকা তিনজনই প্রাণ হারিয়েছেন। এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে ভাঙ্গা উপজেলায় পাঁচটি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে নয়জনে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের ভাঙ্গা উপজেলার নওপাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নের লস্করদিয়া গ্রামের দলিল উদ্দিন মোল্লার ছেলে সৌদি প্রবাসী চয়ন মোল্লা (২৩), হাসনহাটি গ্রামের এনায়েত শেখের ছেলে নয়ন শেখ (২৩) এবং একই গ্রামের আজগর শেখের ছেলে সিয়াম শেখ (২৫)।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে নগরকান্দা থেকে তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে ভাঙ্গার গোলচত্বর এলাকায় ঘুরতে বের হন। সন্ধ্যার পর তারা মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পথে নওপাড়া এলাকায় পৌঁছালে ফরিদপুর থেকে ভাঙ্গার দিকে আসা অজ্ঞাত একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে সামনে থেকে ধাক্কা দেয়। এতে মোটরসাইকেলটি বাসের নিচে পড়ে দুমড়েমুচড়ে যায়।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের চালক চয়ন মোল্লা ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত হন নয়ন শেখ ও সিয়াম শেখ।
স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতেই দুজনের মৃত্যু হয়।
তিন বন্ধুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে নগরকান্দার লস্করদিয়া ও হাসনহাটি এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
দুর্ঘটনায় তিন বন্ধুর ব্যবহৃত টিভিএস অ্যাপাচি 4V মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে গেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশনও ছিল না।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই সোহেল খান বলেন, অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলে একজন নিহত হন। গুরুতর আহত দুইজনকে ঢাকায় নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারাও মারা যান। ঘাতক গাড়িটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি। তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচলের কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। মাত্র এক সপ্তাহে পাঁচটি দুর্ঘটনায় নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সাগর মির্জা বলেন, বেপরোয়া গাড়ি চালানোর কারণেই দুর্ঘটনা বাড়ছে। সড়কে পুলিশি টহল ও তদারকি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
এদিকে একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। ঘাতক বাসটি শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।