ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত ছোট্ট হিয়ামনি। অসুস্থতার পাশাপাশি প্রতিবন্ধিতার কারণে তার স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে। উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থের অভাবে থমকে আছে তার চিকিৎসা। মেয়েকে নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হরি মহন্ত ও বিউটি রানী দম্পতির।
পরিবারের সদস্যরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে হিয়ামনির চিকিৎসা চলছে। মেয়েকে সুস্থ করে তুলতে বাবা-মা রংপুরে বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়েছেন। সেখানকার চিকিৎসকেরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করানো তো দূরের কথা, নিয়মিত চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই কঠিন হয়ে পড়েছে।
হিয়ামনির বাবা হরি মহন্ত উপজেলা পরিষদের পুকুরপাড়ের সরকারি জায়গায় একটি ছোট্ট চায়ের দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। সামান্য আয় দিয়ে সংসারের খরচ চালানোর পাশাপাশি মেয়ের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তিনি এখন প্রায় নিঃস্ব।
শুধু চিকিৎসার সংকটই নয়, থাকার ঘরটিও পরিবারটির জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভূমিহীন এই পরিবারের ঘরের বেড়ার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গেছে। চালের অবস্থাও জরাজীর্ণ। সামান্য বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে। এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশেই অসুস্থ হিয়ামনিকে নিয়ে বসবাস করছেন তার বাবা-মা।
একদিকে মেয়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন বিপুল অর্থ, অন্যদিকে মাথা গোঁজার নিরাপদ একটি ঘর। দুই সংকট একসঙ্গে মোকাবিলা করতে গিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন হরি মহন্ত ও বিউটি রানী।
হিয়ামনির বাবা-মা জানান, মেয়েকে সুস্থ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনাই তাদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু আর্থিক সংকট সেই স্বপ্নের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেয়ের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন, প্রবাসী ও দেশ-বিদেশের সহৃদয় মানুষের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা। পাশাপাশি জরাজীর্ণ ঘরটি মেরামত করে পরিবারটির জন্য নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করতেও সহযোগিতা চেয়েছেন।
তাদের আশা, মানবিক মানুষের সহযোগিতা পেলে হিয়ামনিকে ঢাকায় নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করানো সম্ভব হবে। একই সঙ্গে পরিবারটির মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুও নিরাপদ করা যাবে।
সহযোগিতা পাঠানোর ঠিকানা:
বিউটি রানী, এনআরবিসি ব্যাংক, সুন্দরগঞ্জ শাখা, হিসাব নম্বর: ০১৮০৩১১০০০৪২৭১০
নগদ/বিকাশ: ০১৭৪০৪৩৪৫৭৩
একটি অসহায় শিশুর চিকিৎসায় আপনার সামান্য সহযোগিতাও হিয়ামনির পরিবারের কাছে হয়ে উঠতে পারে বড় আশার আলো।