নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় জমি দখলের মামলায় মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা নেছার আহমেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আদালতে দেওয়া মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করে পুনরায় বিতর্কিত জমিতে প্রবেশ ও দখলের চেষ্টা করার অভিযোগে তার জামিন বাতিল করা হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ফতুল্লা আমলি আদালতের বিচারক সাইফুল ইসলাম শুনানি শেষে নেছার আহমেদের জামিন বাতিল করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাইনবোর্ড এলাকার জমি দখলের অভিযোগে নির্মল চন্দ্র সরকার ভূমি প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর ৪(২) ও ৭(৩) ধারায় নেছার আহমেদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৫৭৮/২০২৬। পরে আদালত মামলাটির তদন্তভার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) দেন।
তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয় পিবিআই। প্রতিবেদনে জমির মালিকানা ও দলিলসংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগের তথ্য উঠে আসে। সেখানে অভিযোগ করা হয়, প্রকৃত জমির মালিক নির্মল চন্দ্র সরকারের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে দাঁড় করানো এবং তার নিঃসন্তান ফুফুর মৃত্যুর পর কাল্পনিকভাবে ফুফুর ছেলে-মেয়ে দেখিয়ে তাদের মাধ্যমে দলিল তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে।
মামলার পরবর্তী পর্যায়ে আদালতে মুচলেকা দিয়ে জামিনে মুক্তি পান নেছার আহমেদ। মুচলেকায় তিনি অঙ্গীকার করেন, বাদীর দাবিকৃত জমিতে আর প্রবেশ করবেন না। একই সঙ্গে ওই জমির ওপর তার কোনো দাবি বা আপত্তি নেই এবং জমিটি তার দখলেও নেই বলে অঙ্গীকার করেন।
বাদীপক্ষের অভিযোগ, জামিনে মুক্ত হওয়ার পর নেছার আহমেদ ফের ওই জমিতে প্রবেশ করেন। এমনকি জমির চারপাশে স্টেইনলেস স্টিলের বেড়া নির্মাণ করে তা দখলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এতে আদালতে দেওয়া মুচলেকা ও জামিনের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে দাবি করে তার জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রতন চৌধুরী বলেন, মুচলেকায় দেওয়া অঙ্গীকারের পরও নেছার আহমেদ বিতর্কিত জমিতে প্রবেশ করে দখলের চেষ্টা করেছেন। এ কারণে তার জামিন বাতিলের আবেদন করা হয়।
তিনি বলেন, গত ২৭ আগস্ট শুনানি শেষে আদালত উভয় পক্ষের বক্তব্য ও উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনা করে নেছার আহমেদের জামিন বাতিল করেন। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়।
তবে জমিটির প্রকৃত মালিকানা, দলিলের বৈধতা এবং দখলসংক্রান্ত অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো হয়নি। এসব বিষয়ে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।