চট্টগ্রামের ডিসি হিল যেন ফের প্রাণ ফিরে পেল সংস্কৃতিপ্রেমীদের পদচারণায়। বৃষ্টি উপেক্ষা করে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের গান, নৃত্য ও সুরের আবেশে মেতে উঠলেন দর্শকরা। নজরুলের দ্রোহ, মানবতা, প্রেম ও সাম্যের চেতনা নৃত্যের ছন্দে ফুটিয়ে তুলে মুগ্ধতা ছড়াল ১৩টি নৃত্য ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রামের ডিসি হিলের নজরুল মঞ্চে ‘নৃত্যনৈবেদ্য’ আয়োজন করে এই নৃত্যানুষ্ঠান। এতে চট্টগ্রামের ১৩টি সংগঠনের নৃত্যশিল্পীরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠান ঘিরে বিকেল থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখর হয়ে ওঠে ডিসি হিল। দীর্ঘদিন পর এমন বড় পরিসরের সাংস্কৃতিক আয়োজন পেয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন সংস্কৃতিপ্রেমীরা। বৃষ্টি নামলেও থেমে থাকেনি নৃত্য পরিবেশনা। বরং বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই শিল্পীরা একের পর এক নজরুলসংগীতের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘নৃত্যনৈবেদ্য’র পরিচালক ও প্রশিক্ষকদের অংশগ্রহণে পরিবেশিত হয় উদ্বোধনী নৃত্য ‘অঞ্জলি লহ মোর’। এরপর নজরুলের ১৩টি গানের সঙ্গে বিভিন্ন নৃত্যদলের শিল্পীরা পরিবেশন করেন মনোমুগ্ধকর নৃত্য।
আয়োজকদের অন্যতম নেভী দাশ বলেন, ‘আমরা নৃত্যশিল্পীরা মঞ্চে নাচ করতে ভালোবাসি। সেই নৃত্য নজরুলের গানের মাধ্যমে দর্শকদের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই আমাদের এই আয়োজন।’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের কালচারাল অফিসার সৈয়দ মুহাম্মদ আয়াজ মাবুদ। তিনি বলেন, সরকারি আয়োজনের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের এমন উদ্যোগ শিল্প-সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ধরনের আয়োজনের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রামের সাবেক কালচারাল অফিসার মানসী দাশ তালুকদার, নৃত্যশিল্পী স্বপন দাশ, শুভ্রা সেন, স্বপন বড়ুয়া, প্রিয়াঙ্কা বড়ুয়া, হিল্লোল দাশ সুমন, তন্ময় বড়ুয়াসহ অনেকে।
এ ছাড়া সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ শিপন, সংগীতশিল্পী জিয়া উদ্দিনসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি ও নাট্যকর্মী এবং শিল্পকলা একাডেমি চট্টগ্রাম ফ্যান গ্রুপের অ্যাডমিন ফোরকান রাসেল বলেন, দেশের শিল্প-সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনকে এভাবে এগিয়ে আসতে হবে। মঞ্চে নিয়মিত অনুষ্ঠান আয়োজনের মাধ্যমে দর্শকদের সামনে আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে হবে।
পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শ্রাবণী দাশ গুপ্তা।
নৃত্যনৈবেদ্যে অংশ নেয়—ঘুঙুর নৃত্যকলা কেন্দ্র, স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ড্যান্স, কৃত্তিকা নৃত্যালয়, রুমঝুম নৃত্যকলা একাডেমি, দীপশিখা নৃত্য গোষ্ঠী, শুভঙ্করী ডান্স একাডেমি, সুরধ্বনি সংগীত বিদ্যালয়, আদিশঙ্কর নৃত্য কলা কেন্দ্র, সৃজন নৃত্যকলা একাডেমি, নটরাজ নৃত্যাঙ্গন একাডেমি, কল্পবৃক্ষ, নৃত্যেশ্বর নৃত্যালয় ও সরগরম সঙ্গীত একাডেমি।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এমন আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চা আরও বিস্তৃত হবে এবং সমৃদ্ধ হবে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য।