মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সংস্কারের জন্য বরাদ্দ ও কার্যাদেশ দেওয়ার পরও দুই বছর ধরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের কাজ শুরু হয়নি। এতে নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর ইউপি অফিস ভায়া কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্প সড়কটির বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি ও কাদা জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। ফলে সীমান্ত এলাকার হাজারো মানুষকে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই নির্ধারিত সময়ে সংস্কারকাজ শুরু হয়নি। উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে তাগিদপত্র দেওয়া হলেও কাজের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশের পিচ উঠে পাথর ও মাটি বেরিয়ে পড়েছে। কোথাও ছোট, আবার কোথাও বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টির পানি জমে এসব গর্ত কাদা-পানিতে পরিণত হচ্ছে। রাস্তার পাশের কিছু অংশও ভেঙে পড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্পে যাতায়াতের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকার হাজারো মানুষ চলাচল করেন। সড়কের বেহাল দশার কারণে সিএনজি অটোরিকশাসহ অন্যান্য যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। এতে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রী ও চালকেরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বন্যা ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামীণ রাস্তার অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় মৌলভীবাজার জেলা এলজিইডির কার্যালয় থেকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে চারটি সড়কের সংস্কারকাজের জন্য টেন্ডার আহ্বান করা হয়। এসব কাজের জন্য মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৪ কোটি টাকা।
এর মধ্যে কমলগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ চৈত্রঘাট-নয়াবাজার ভায়া শহীদনগর সড়কের চার কিলোমিটার এবং নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর ইউপি অফিস ভায়া কাঁঠালকান্দি বিওপি ক্যাম্প সড়কের ১ দশমিক ৫ কিলোমিটার অংশ রয়েছে। এ দুটি সড়কের সংস্কারকাজের সমন্বিত প্রাক্কলিত ব্যয় প্রায় পাঁচ কোটি টাকা।
প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য কুলাউড়ার ঠিকাদার মো. মুহিবুর রহমান কোকিল ও আরএবিআরসি (প্রাইভেট) লিমিটেডকে যৌথভাবে (জেভি) ঠিকাদার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। ২০২৪ সালের ২ এপ্রিল কার্যাদেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা ছিল।
ঠিকাদার চৈত্রঘাট-নয়াবাজার সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করলেও নৈনারপার বাজার-ইসলামপুর সড়কের কাজ এখনো শুরুই হয়নি।
কার্যাদেশ পাওয়ার প্রায় পাঁচ মাস পরও কাজ শুরু না হওয়ায় ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদপত্র দেওয়া হয়। এরপরও কাজ শুরু না হওয়ায় সড়কের আগের ক্ষতিগুলো আরও বড় আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সল আহমেদ বলেন, দুই বছর আগে শুনেছিলাম সড়কের সংস্কারকাজ শুরু হবে। কিন্তু এখনো কাজ শুরু হয়নি। ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের গাফিলতিতে সড়কটি দিন দিন আরও খারাপ হচ্ছে।
বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির আহমেদ বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত কাজ শুরু না হলে মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
সড়কটিতে নিয়মিত চলাচলকারী সিএনজি চালক জুমের মিয়া, আব্দুল কাইয়ুম ও বাদল বলেন, ভাঙা সড়কের কারণে প্রায়ই গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে এবং চাকা পাংচার হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম সমস্যায় পড়তে হয়।
নৈনারপার বাজারের ব্যবসায়ী আলীম উদ্দিন বলেন, দুই বছর আগে যে জায়গাগুলো ভাঙা ছিল, এখন সেগুলো আরও বড় হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নতুন করে কার্পেটিং উঠে গেছে। দ্রুত সংস্কার না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মুহিবুর রহমান কোকিল বলেন, প্রথম সড়কের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হয়েছে। তবে নৈনারপার অংশে বিটুমিন ও অন্যান্য কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি এবং পারিপার্শ্বিক কিছু জটিলতার কারণে কাজ শুরু করতে দেরি হয়েছে। দ্রুত সরঞ্জাম পাঠিয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে।
এলজিইডির কমলগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী সাইফুল আজম সড়কটির কাজ এখনো শুরু না হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ঠিকাদারের সঙ্গে অফিস থেকে যোগাযোগ করা হয়েছে। তিনি দ্রুত কাজ শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দীর্ঘসূত্রতা কাটিয়ে দ্রুত সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হবে এবং সীমান্ত এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।