চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ পেতে জালিয়াতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আলোচিত ঠিকাদার ও নিষিদ্ধ যুবলীগের সাবেক নেতা গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের বিচার শুরু হয়েছে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মিজানুর রহমান মামলাটিতে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। মামলার পরবর্তী কার্যক্রম হিসেবে আগামী ২০ সেপ্টেম্বর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হবে।
আদালত সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ ভবন নির্মাণের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজের দরপত্রে জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠান জি কে বি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেড অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে অংশ নেয়।
দুদকের অভিযোগ, দরপত্রে অংশ নেওয়ার জন্য যে ধরনের নির্মাণ অভিজ্ঞতা ও আর্থিক সক্ষমতার শর্ত ছিল, জি কে শামীমের প্রতিষ্ঠানের তা পূরণ করার প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ছিল না। এ অবস্থায় অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা ও টার্নওভার নিজেদের বলে দেখিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে দরপত্রে অংশ নেওয়া হয়।
দুদকের তদন্তে আরও অভিযোগ উঠে আসে, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরে প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ও শেয়ারের তথ্যেও অসঙ্গতি দেখানো হয়েছিল। এসব জাল ও অসত্য নথি ব্যবহার করে দরপত্র মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার এবং সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজ পাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২০ সালের ২২ নভেম্বর জি কে শামীমসহ দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-১-এর তৎকালীন সহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম। তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৭ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক।
অভিযোগপত্রের ভিত্তিতে জি কে শামীমের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ৪০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছে।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ সাহেদ বলেন, মামলার একমাত্র আসামি জি কে শামীমের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন এবং অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশানের নিকেতনে জি কে শামীমের কার্যালয়ে অভিযান চালায় র্যাব। সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা, এফডিআর, আগ্নেয়াস্ত্র ও মদ উদ্ধারের পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জি কে শামীম নির্মাণ প্রতিষ্ঠান জি কে বি কোম্পানি প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণের কাজ পেতে প্রায় ৭৫ কোটি টাকার দরপত্রে জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলাটিতেই এবার তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো।