প্রেমনির্ভর নাটক ও সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচার বন্ধের দাবিতে আইনি নোটিশ দেওয়ার ঘটনায় এবার ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একের পর এক কটাক্ষ করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কেমন লাগছে নতুন স্বাধীনতা?’
যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষার কথা উল্লেখ করে সম্প্রতি প্রেম ও রোমান্টিক কনটেন্টের নাটক-সিনেমা বন্ধের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই নিজের অবস্থান ব্যঙ্গাত্মকভাবে তুলে ধরলেন শবনম ফারিয়া।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে অভিনেত্রী লিখেছেন, ‘ভাগ্যিস আমার প্রেমের নাটক করার মতো বয়স নাই! আমার কোনো টেনশন নাই।’
এরপর নোটিশের দাবিকে ইঙ্গিত করে নানা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করেন তিনি। ফারিয়া লেখেন, এখন থেকে শুধু পরকীয়ার নাটক হতে পারে। কিংবা ‘এক স্বামীর চার স্ত্রী’ ধরনের গল্প হতে পারে, যেখানে সবাই একসঙ্গে ঘুরবে, খাবে এবং টিকটক করবে।
এ ছাড়া চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের মতো বিষয় নিয়ে নাটক নির্মাণের কথাও ব্যঙ্গ করে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে শুধু ছেলেরা নাটকে অভিনয় করবে, আর মেয়েরা ঘর-সংসারের কাজে ব্যস্ত থাকবে, এমন মন্তব্যও করেন অভিনেত্রী।
ফারিয়ার ব্যঙ্গাত্মক পোস্টে দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ও উঠে আসে। তিনি গ্যাস না থাকা, বিদ্যুৎ সংকট, মোবাইলের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া—এসব বিষয় টেনে নোটিশের দাবিকে কটাক্ষ করেন। একপর্যায়ে মোবাইল ফোনে নিজের মতো ‘উল্টাপাল্টা স্ট্যাটাস’ দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
পোস্টের শেষদিকে ‘লাল আপ্পি’ সম্বোধন করে ফারিয়া প্রশ্ন করেন, ‘কেমন লাগছে নতুন স্বাধীনতা?’ এরপর ঘর থেকে বের হয়ে অটোরিকশায় ঘুরে বেড়ানোর কথাও ব্যঙ্গ করে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, বর্তমান সময়ের নাটক ও চলচ্চিত্রে প্রেম ও রোমান্টিক বিষয়বস্তুর আধিক্য দেখা যাচ্ছে। এতে যুবসমাজ পড়াশোনা ও ক্যারিয়ার থেকে দূরে সরে যাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি কিছু কনটেন্টে পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপনের অভিযোগও করা হয়েছে।
নোটিশে প্রেমভিত্তিক কনটেন্টের পরিবর্তে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া না হলে জনস্বার্থে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
এর আগে রোমান্টিক নাটক-সিনেমা বন্ধের দাবির প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠন। তাদের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে। তবে একটি সম্পূর্ণ সৃজনশীল ধারা বন্ধের উদ্যোগ শিল্পের বিকাশ ও সংশ্লিষ্টদের কর্মসংস্থানের জন্য উদ্বেগজনক।
আইনি নোটিশ ও শিল্পী-কলাকুশলীদের পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিষয়টি নিয়ে বিনোদন অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।