প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবিতে দেওয়া আইনি নোটিশকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দেশের বিনোদন অঙ্গন। রোমান্টিক কনটেন্ট বন্ধের এমন দাবির তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে টেলিভিশন নাটকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাতটি সংগঠন।
এক যৌথ প্রতিবাদলিপিতে সংগঠনগুলো বলেছে, রোমান্টিক নাটক বা সিনেমা নির্মাণকে সামগ্রিকভাবে বন্ধ করার দাবি সৃজনশীল শিল্পের বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে এ ধরনের উদ্যোগ শিল্পী, নির্মাতা, প্রযোজক ও কলাকুশলীদের কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এর আগে যুবসমাজের নৈতিক অবক্ষয় রোধ, সামাজিক শৃঙ্খলা ও পারিবারিক মূল্যবোধ রক্ষার কথা উল্লেখ করে প্রেমভিত্তিক নাটক ও সিনেমা নির্মাণ এবং সম্প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়।
নোটিশে দেশের নাটক ও চলচ্চিত্রে প্রেম ও অতিরিক্ত রোমান্টিক কনটেন্টের আধিক্যের অভিযোগ তুলে দাবি করা হয়, কিছু কনটেন্টে পরকীয়া ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ককে স্বাভাবিকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব যুবসমাজের ওপর পড়ছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
একই সঙ্গে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও প্রতিরক্ষাভিত্তিক নাটক-সিনেমা নির্মাণ ও সম্প্রচারে বাধ্যতামূলক নির্দেশনা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুন গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর ডাকযোগে নোটিশটি পাঠান বলে জানান।
নোটিশে সংবিধানের ২১(১), ২৩ ও ৩৯ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রয়েছে। নোটিশ পাওয়ার ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে নেওয়া পদক্ষেপ জানাতে বলা হয়েছে। অন্যথায় সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্টে রিট করার কথাও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, সাত সংগঠনের যৌথ প্রতিবাদে বলা হয়েছে, কোনো নির্দিষ্ট কনটেন্ট নিয়ে আপত্তি থাকলে প্রচলিত আইন ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে তার প্রতিকার সম্ভব। কিন্তু একটি নির্দিষ্ট সৃজনশীল ধারা পুরোপুরি বন্ধের দাবি টেলিভিশন ও বিনোদনশিল্পের জন্য উদ্বেগজনক।
প্রতিবাদলিপিতে দায়িত্বশীল ও মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংগঠনগুলোর দাবি, সৃজনশীল স্বাধীনতা বজায় রেখেই মানসম্মত ও সামাজিকভাবে দায়িত্বশীল নাটক-সিনেমা নির্মাণের পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
প্রতিবাদে স্বাক্ষর করেন ডিরেক্টরস গিল্ড, অভিনয়শিল্পী সংঘ, টেলিভিশন নাট্যকার সংঘ, ক্যামেরাম্যান অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, অডিও-ভিজ্যুয়াল টেকনিক্যাল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, টেলিভিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস অর্গানাইজেশন অব বাংলাদেশ এবং বাংলাদেশ মেকআপ আর্টিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।