
র্যাবের দাবি, অহিদুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বেটিং সাইট পরিচালনা ও প্রচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তিনি চক্রটির একজন ‘সুপার এজেন্ট’ হিসেবেও কাজ করতেন।
র্যাব-৩ জানায়, গ্রেপ্তারের সময় অহিদুরের কাছ থেকে জুয়া পরিচালনায় ব্যবহৃত দুটি স্মার্টফোন, দুটি সিমকার্ড, নগদ ৫৫ হাজার ৫০০ টাকা, বিকাশে ৮১ হাজার ২১৪ টাকা এবং নগদ অ্যাপে ৫০ হাজার ৪১ টাকা পাওয়া যায়। এ ছাড়া একটি ইয়ামাহা এফজেড ভার্সন-৩ মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অহিদুর ও তার সহযোগীরা ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে গ্রাহক সংগ্রহ করে অনলাইন বেটিংয়ে যুক্ত করতেন। গ্রাহকদের বেটিংয়ে অংশ নিতে সংশ্লিষ্ট সাইটের ভার্চুয়াল কারেন্সি বা ‘PBU’ অর্থের বিনিময়ে সরবরাহ করা হতো।
র্যাব আরও জানায়, অহিদুরের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের ক্রোম ব্রাউজারের হিস্টোরি পর্যালোচনায় একাধিক অনলাইন বেটিং সাইটের তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সাইটের কয়েকটিতে তিনি অ্যাডমিন এবং কয়েকটিতে এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অনলাইন বেটিংয়ের জন্য গ্রাহক সংগ্রহে তিনি দুটি ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্টও ব্যবহার করতেন।
মোবাইল ফোনের হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের চ্যাট হিস্টোরি পর্যালোচনা করে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে বেটিং সাইটের প্রচার এবং আর্থিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
জিজ্ঞাসাবাদে অহিদুর জানিয়েছেন, এই চক্রে আরও ১০ থেকে ১২ জন সদস্য জড়িত রয়েছেন। র্যাবের ভাষ্য, চক্রটির সদস্যরা অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও গাড়িসহ বিভিন্ন সম্পদ গড়ে তুলেছেন বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে।
র্যাব-৩ জানায়, চক্রের সদস্যরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেন এবং ভুয়া পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট খুলে বেটিং কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেপ্তার অহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।