ফিরে এলো ভয়াল ১৭ আগস্ট, বোমার শব্দে যেদিন কেঁপেছিল পুরো দেশ

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ৬৩ জেলার প্রায় সাড়ে ৪০০ স্থানে একযোগে বিস্ফোরিত হয় বোমা। আদালত,

2026-08-17T14:40:12+00:00
2026-08-17T14:40:12+00:00
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
ফিরে এলো ভয়াল ১৭ আগস্ট, বোমার শব্দে যেদিন কেঁপেছিল পুরো দেশ
ভোরের ডাক ডেস্ক
সোমবার, ১৭ আগস্ট, ২০২৬, ২:৪০ পিএম 
প্রতীকী ছবি
২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দেশের ৬৩ জেলার প্রায় সাড়ে ৪০০ স্থানে একযোগে বিস্ফোরিত হয় বোমা। আদালত, সরকারি কার্যালয়, বিমানবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ছিল হামলার লক্ষ্য। ভয়াবহ ওই সিরিজ বোমা হামলার মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে নিজেদের অস্তিত্বের জানান দেয় জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)।

মুন্সীগঞ্জ ছাড়া দেশের প্রায় সব জেলায় একই সময়ে চালানো ওই হামলায় নিহত হন দুজন। আহত হন অন্তত ১০৪ জন। হামলার পর দেশের বিভিন্ন থানায় দায়ের করা হয় ১৫৯টি মামলা।

পুলিশ সদর দপ্তর ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, এসব মামলার মধ্যে ১৪২টির অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করা হয়। বাকি ১৭টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে ঘটনার সত্যতা থাকলেও আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়। এসব মামলায় মোট ৯৬১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং ১ হাজার ৭২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।

পুলিশের হিসাবে, ১৫৯ মামলার মধ্যে ৯৪টির বিচার শেষ হয়েছে। এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে সাজা পেয়েছেন ৩৩৪ জন। আরও ৫৫টি মামলা বিচারাধীন, যেখানে আসামি ৩৮৬ জন। রায় হওয়া মামলাগুলোতে ৩৪৯ জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ২৭ জনের মৃত্যুদণ্ডের রায় হয়, যার মধ্যে ৮ জনের ফাঁসি কার্যকর হয়েছে। এ ছাড়া ৩৫৮ জন খালাস পেয়েছেন এবং ১৩৩ জন জামিনে রয়েছেন।

১৭ আগস্টের পরও থামেনি জঙ্গি হামলা

সিরিজ বোমা হামলার কয়েক মাস পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক জঙ্গি হামলা অব্যাহত থাকে। ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর চট্টগ্রাম, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের আদালতে বোমা হামলায় তিনজন নিহত এবং বিচারকসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন।

এরপর সিলেটে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বিপ্লব গোস্বামীর ওপর বোমা হামলা চালানো হয়। এতে বিচারক ও তাঁর গাড়িচালক আহত হন।

১৪ নভেম্বর ঝালকাঠিতে বিচারক বহনকারী গাড়ি লক্ষ্য করে আত্মঘাতী হামলা চালায় জঙ্গিরা। এতে জেলা জজ আদালতের বিচারক জগন্নাথ পাঁড়ে ও সোহেল আহম্মদ নিহত হন।

গাজীপুর ও চট্টগ্রামে ভয়াবহ হামলা

২৯ নভেম্বর দেশের জঙ্গি তৎপরতার ইতিহাসে ঘটে আরও ভয়াবহ দুটি হামলা। ওই দিন গাজীপুর বার সমিতির লাইব্রেরিতে আইনজীবীর পোশাকে ঢুকে এক আত্মঘাতী জঙ্গি বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে আইনজীবীসহ ১০ জন নিহত হন। হামলাকারীও ঘটনাস্থলে মারা যায়।

একই দিন চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে আত্মঘাতী হামলা চালায় জেএমবির সদস্যরা। এতে পুলিশ কনস্টেবল রাজীব বড়ুয়া ও এক সাধারণ মানুষ নিহত হন। আহত হন পুলিশসহ প্রায় অর্ধশত মানুষ।

১ ডিসেম্বর গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের গেটেও বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কৃষি কর্মকর্তা আবুল কাশেম নিহত এবং অন্তত ৪০ জন আহত হন।

এর এক সপ্তাহ পর ৮ ডিসেম্বর নেত্রকোনায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর কার্যালয়ের সামনে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। এতে উদীচীর স্থানীয় দুই নেতাসহ আটজন নিহত হন। আহত হন শতাধিক মানুষ।

বিচার ও দণ্ড

জঙ্গি তৎপরতার সঙ্গে জড়িত শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধেও পরে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যার মামলায় জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমান, সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই, আতাউর রহমান সানি, আবদুল আউয়াল, খালেদ সাইফুল্লাহ ও সালাউদ্দিনের ফাঁসি কার্যকর করা হয়।

২০০৫ সালের এসব ধারাবাহিক জঙ্গি হামলায় বিচারক, আইনজীবী, পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন নিহত এবং চার শতাধিক মানুষ আহত হন।

আজ, সেই ভয়াল ১৭ আগস্টের ২১ বছর পূর্তিতে দেশের ইতিহাসে জঙ্গিবাদের বিস্তার, ধারাবাহিক হামলা এবং এর বিচারপ্রক্রিয়ার সেই অধ্যায় আবারও সামনে এসেছে। ২০০৫ সালের ওই দিনটি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও জঙ্গিবাদ মোকাবিলার ইতিহাসে এখনও একটি ভয়াবহ স্মৃতি হয়ে আছে।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: