বাংলাদেশে আল-কায়েদার ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা চলছে, এমন প্রতিবেদনের বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানিয়েছেন, প্রতিবেদনটি এখনও তিনি পড়েননি। শুধু অনুমানের ভিত্তিতে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা বলেন।
বাংলাদেশে আল-কায়েদার তৎপরতা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, তিনি প্রতিবেদনটি এখনও পড়েননি, তবে বিষয়টি শুনেছেন। প্রতিবেদনটি না দেখে এ বিষয়ে মন্তব্য করা সম্ভব নয় বলেও জানান তিনি।
সরকার বিষয়টি আমলে নিয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অনুমান নিয়ে কোনো রিপোর্টের ওপর আমরা অ্যাকশন নিতে পারি না।’ তিনি জানান, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবেদনে বাংলাদেশে এমন তৎপরতার সম্ভাবনার কথা অনুমান করা হয়েছে।
এদিকে সরকারের ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি সংকলন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সেকশনের মাধ্যমে গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশ করা হবে।
তিনি জানান, সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা বৈঠকে কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন উপাসনালয়ের ধর্মীয় ব্যক্তিদের অনুদান ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয় অনুমোদন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিজীবীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনা প্রায় বাস্তবায়িত হয়েছে। জাতীয় কমিটির সভাপতি হিসেবে তিনি বিভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন এবং খাদ্য নিরাপত্তার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের আল-কায়েদা ও আইএসবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা পর্যবেক্ষণ দলের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দক্ষিণ এশিয়ায় আল-কায়েদার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে আল-কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশীয় শাখা বাংলাদেশে ছোট ও গোপন সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল-কায়েদার কোনো সক্রিয় ঘাঁটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে-এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণের কথা বলা হয়নি। প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণকে ঘিরেই বাংলাদেশে সংগঠনটির সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।