‘১৭ বছরের আন্দোলনে মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’: প্রধানমন্ত্রী

ভোরের ডাক ডেস্ক

জাতীয়

বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে

2026-08-16T20:38:00+00:00
2026-08-16T20:38:00+00:00
  সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬,
২ ভাদ্র ১৪৩৩
 
সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
‘১৭ বছরের আন্দোলনে মাঠে ছিল না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে’: প্রধানমন্ত্রী
ভোরের ডাক ডেস্ক
রোববার, ১৬ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৮ পিএম 
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
বিগত ১৭ বছরের আন্দোলনে যারা রাজপথে ছিলেন না, তারাই এখন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জনগণকে বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারীদের বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় কিশোরগঞ্জের পুরাতন স্টেডিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচিতে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, দেশে অনেক বিভ্রান্তকারী ও রটনাকারী রয়েছে। তাদের অতীত ভূমিকা বিবেচনা করে ভবিষ্যৎ কর্মকাণ্ডের দিকেও নজর রাখতে হবে। জনগণকে চোখ-কান খোলা রেখে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, একাত্তর, ১৯৮৬ ও ১৯৯৬ সালে তাদের ভূমিকা কী ছিল, সেটিও দেখতে হবে। গত ১৭ বছরের জনগণের আন্দোলনেও তাদের রাজপথে দেখা যায়নি। ওই আন্দোলনে বিএনপিসহ মিত্র রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা অত্যাচার-নির্যাতন, গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

দেশকে স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো বিভ্রান্তকারীর কথায় বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না। কেউ বিভ্রান্ত করতে এলে অতীতের মতো তাদের সমুচিত জবাব দিতে হবে।

অব্যবহৃত জলাশয়ে তরুণদের কর্মসংস্থান

এর আগে কিশোরগঞ্জে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি বলেন, নদী, বিল, হাওর-বাঁওড় ও পুকুরসমৃদ্ধ বাংলাদেশের জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষ স্বাবলম্বী হতে পারেন। অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে সংশ্লিষ্ট এলাকার তরুণদের মধ্যে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বাংলাদেশ ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি সমমূল্যের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে।

নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনার পরিকল্পনা

কিশোরগঞ্জে আরেক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, নারীদের অনার্স পর্যন্ত বিনা খরচে পড়াশোনার ব্যবস্থা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভালো ফলাফল করা ছাত্রীদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া গরিব পরিবারের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের বছরে একবার স্কুল ড্রেস এবং প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ শিশুর হাতে স্কুলব্যাগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

নারীদের স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ হিসেবে চার কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী পাঁচ বছরে দেশের প্রতিটি ঘরে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

২০ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন

কৃষকদের সেচ সুবিধা বাড়ানো এবং গ্রামীণ এলাকার পানিসংকট দূর করতে আগামী ২০ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।

এ ছাড়া চীনের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে চট্টগ্রামে নতুন শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে দেশের বেকার তরুণ-তরুণীদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

বিএনপির রাজনীতি দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের রাজনীতি দাবি করে তারেক রহমান বলেন, কয়েকটি রাস্তা বা ভবন নির্মাণ করেই দেশ গড়ে ফেলা হয়েছে, এমন দাবি তারা করতে চান না। মানুষের কল্যাণই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য। ‘সবার আগে বাংলাদেশ এবং সবার জন্য বাংলাদেশ’ এটাই তাদের লক্ষ্য বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশ থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপী ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থী, অসুস্থ, দুস্থ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অনুদান এবং মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিতসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রতিনিধিদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

দেশের পরিত্যক্ত ও অব্যবহৃত জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 
তিনি বলেন, নদী, বিল, হাওড়-বাঁওড় ও পুকুরসমৃদ্ধ বাংলাদেশের জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে মাছ চাষের মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক মানুষের স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মৎস্য খাত দেশের মানুষের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশীয় মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি, মৎস্য সংরক্ষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যারা অবদান রাখছেন, তাদের প্রতি তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, দেশের অনেক পুকুর ও জলাশয় কোনো কাজে ব্যবহার না হয়ে পড়ে আছে। এসব জলাশয় সংস্কার করে তরুণদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়ার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। জলাশয়কে কাজে লাগিয়ে তরুণদের কীভাবে উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রায় ৫২টি দেশে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা মূল্যের মাছ ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করেছে। মৎস্য খাতকে আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে এর অবদান বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। 

জাতীয় মৎস্য সপ্তাহের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১৩টি ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) প্রদান করেন।

অনুষ্ঠান শুরুর আগে প্রধানমন্ত্রী সরকারি কার্প হ্যাচারিতে পোনা মাছ অবমুক্ত ও মাছ ধরা পরিদর্শন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে তিনি আচমিতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আচমিতা জর্জ ইনস্টিটিউশনের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। 

অনুষ্ঠানে সারা দেশে সফল মৎস্য চাষি, উৎপাদন ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ১৪ জনকে স্বর্ণ পদক ও ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।

কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিনুর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য জালাল উদ্দিন এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন।


Loading...
Loading...

জাতীয়- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: