প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের গণমুখী ও সংস্কারধর্মী বিভিন্ন উদ্যোগে বাংলাদেশ দ্রুত পরিবর্তনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
রবিবার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতিকে সামনে রেখে সরকার সুশাসন ও অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
সরকারের গত ছয় মাসের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে সুদে-আসলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হয়েছেন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও পারিবারিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবসহ ধর্মীয় ব্যক্তিদের সরকারি ভাতা, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন হচ্ছে বলে জানান।
মাহদী আমিন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি নারীদের স্বনির্ভর ও মর্যাদাবান করে তোলার একটি উদ্যোগ। কার্ড বিতরণে কিছু কারিগরি অসংগতি ধরা পড়ায় ডেটাবেজ হালনাগাদ ও যাচাই প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও নিত্যপণ্যের বাজার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর রমজান ও দুই ঈদে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং শ্রমিকদের বকেয়া বেতন-বোনাস সময়মতো পরিশোধ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম সাফল্য। দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিকল্প উৎস থেকে সাশ্রয়ী মূল্যে গ্যাস ও জ্বালানি সংগ্রহের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।
শ্রমবাজার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, মালয়েশিয়ার সঙ্গে আলোচনা করে বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগস্টের শেষ নাগাদ এ বিষয়ে অগ্রগতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। বাজারটি চালু হলে পরবর্তী চার মাসে এক লাখের বেশি কর্মীর মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
এ ছাড়া জাপান, ওমান, জর্ডানসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে কারিগরি ও ভাষা প্রশিক্ষণ এবং জামানতবিহীন বিশেষ ঋণের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মাহদী আমিন বলেন, গত ছয় মাসে দেশে বাকস্বাধীনতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের কাজ চলছে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের বৈদেশিক নীতির মূল লক্ষ্য ‘সবার আগে বাংলাদেশ’। ভারতসহ বিশ্বের সব দেশের সঙ্গে সমতা, ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে চায় সরকার।
অর্থনৈতিক উন্নয়নের পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, আগামী দিনে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। ব্যবসা সহজ করতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস কার্যকর, বন্দরে ২৪ ঘণ্টা কার্গো সেবা এবং অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়াতে কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক ছাড়ের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকারের সততা, সদিচ্ছা ও দায়বদ্ধতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ ভবিষ্যতে একটি সমৃদ্ধ ও আত্মমর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিশ্বের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।