মাদারীপুর সদর থানার ভেতরে পুলিশি হেফাজতে থাকা এক যুবকের হাতকড়া পরা অবস্থায় টিকটক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। থানার ভেতরে পুলিশের উপস্থিতিতে ওই আসামি কীভাবে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ভিডিও ধারণের সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে ‘তানভীর নুসু’ নামের এক যুবককে হাতকড়া পরা অবস্থায় থানার ভেতরে বসে ভিডিও করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তার আশপাশে কয়েকজন পুলিশ সদস্যকেও বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে মাদারীপুর শহরের কলেজ রোড এলাকায় একটি মারামারির ঘটনায় তানভীর নুসুকে আটক করা হয়। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে রাখা হয়।
তবে পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার হাতে মোবাইল ফোন কীভাবে পৌঁছাল এবং থানার ভেতরে বসে ভিডিও করার সুযোগ তিনি কীভাবে পেলেন-এ নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেকে ঘটনাটিকে পুলিশি নজরদারির ঘাটতি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করছেন।
এর আগে গত ৯ জুলাই মাদারীপুর সদর থানার বারান্দার গ্রিল ভেঙে এক নারী আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনার পর এবার একই থানার ভেতরে হাতকড়া পরা আসামির টিকটক ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় থানার নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, দায়িত্বে থাকা সদস্যদের অবহেলার কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে।
এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। ভিডিওটি দেখার পর তিনি খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানবেন। ঘটনার সঙ্গে কারও দায়িত্বে অবহেলা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুলিশি হেফাজতে থাকা একজন আসামির হাতে মোবাইল ফোন কীভাবে গেল এবং থানার ভেতরে তাকে ভিডিও করার সুযোগ দেওয়া হলো কেন-এখন এসব বিষয় খতিয়ে দেখাই মূল বিষয়। ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।