টানা বৃষ্টি, সরবরাহে ঘাটতি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির প্রভাবে খুলনার বাজারে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। বিশেষ করে সবজির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। পাইকারি বাজারের বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। এতে সীমিত আয়ের মানুষ, দিনমজুর ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
খুলনার বড়বাজার, ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজার, বয়রা, খালিশপুর, চিত্রালী, দৌলতপুর, সোনাডাঙ্গা, নিরালা, আড়ংঘাটা ও ফুলবাড়ীগেটসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম বেড়েছে। বাজারভেদে একই পণ্যের দামে ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্যও রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা বৃষ্টিতে উৎপাদন এলাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় আড়তে বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। ফলে পাইকারি বাজার থেকে খুচরা পর্যায়ে আসার পর পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি টমেটো ৬০ থেকে ৭০ টাকা, পেঁপে ৫০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ১৭০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গাজর ২০০ টাকা, ক্ষিরাই ৮০ থেকে ১০০ টাকা, লালশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ডাঁটা ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি প্রায় ৩০০ টাকা, ঢেঁড়স ১০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের লাউ ৮০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েকদিন আগেও এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম ছিল।
সবজির পাশাপাশি মাছ-মাংস ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামও বেড়েছে। বাজারে ইলিশের দামও বেড়ে কেজিপ্রতি প্রায় ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত উঠেছে বলে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ডিম, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দামেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। হঠাৎ করে চিনির দামও কেজিতে প্রায় ৭ টাকা বেড়েছে।
বিশেষ করে টমেটোর দামে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভরা মৌসুমে পাইকারি বাজারে ১৮ থেকে ২০ টাকা কেজি দরের টমেটো খুচরা বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
নিরালা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আকরাম বলেন, ‘এই মৌসুমে সবজির দাম অনেক বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমেছে।’
ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারে বাজার করতে আসা স্কুলশিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, ‘পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরা বাজারে অনেক পণ্যের দাম কেজিতে ১৫ থেকে ২০, এমনকি ২৫ টাকা পর্যন্ত বেশি।’
নিরালা বাজারের ব্যবসায়ী সোহাগ বলেন, ‘সবজির দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। বিশেষ করে টমেটোর সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে।’
বাজার করতে আসা আবিদুর রহমান বলেন, ‘বড়বাজার থেকে বাজার করি। এখানে খুচরা বাজারের তুলনায় কিছুটা কম দামে পণ্য পাওয়া যায়। তবে আগের তুলনায় এখন একই টাকায় কম পণ্য কিনতে হচ্ছে।’
বড়বাজারের ব্যবসায়ী হাসেম স্টোরের আবুল হাসেম বলেন, ‘১৫ দিন আগে যেসব পণ্য যে দামে বিক্রি করেছি, এখন সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আড়ত থেকেই বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে।’
মেসার্স সাউদার্ন ট্রেডার্সের ম্যানেজার সিদ্দিক বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে টানা বৃষ্টির কারণে প্রায় সব পণ্যের দাম বেড়েছে।’
দৌলতপুর কাঁচাবাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী বারিক শেখ ও মো. রাজীব বলেন, ‘প্রায় এক সপ্তাহ ধরে পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাই সামঞ্জস্য রেখে সামান্য লাভে খুচরা বিক্রি করছি।’
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, বৃষ্টি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকলে সবজির দাম বাড়তে পারে। তবে আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে ধীরে ধীরে বাজারদর কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোক্তাদের দাবি, বাজারে পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি বাজার তদারকি জোরদার করতে হবে। একই পণ্যের পাইকারি ও খুচরা দামের অস্বাভাবিক ব্যবধান এবং অযৌক্তিক মুনাফা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।