নেত্রকোনার মদন উপজেলায় মগড়া নদীর তীব্র ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের জানালা ঘেঁষে এখন নদীর স্রোত বইছে। ভাঙনের শব্দে কেঁপে উঠছে পুরো ভবন। ইতোমধ্যে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ ও একটি ওয়াশরুম নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
যেকোনো সময় পুরো বিদ্যালয়টি নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে-এমন আশঙ্কায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে বিদ্যালয়ের ১৭৭ জন শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। ভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাগজান, কুঠুরীকোনা, পাহাড়পুর ও পরশখিলা গ্রামের শিশুরা পড়াশোনা করে। দীর্ঘদিনের এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নিয়ে অনেকে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত রয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টিতে মগড়া নদীর পানি বাড়লে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। গত কয়েক দিনের ভাঙনে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষের বড় অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর আগেও বিদ্যালয়ের একটি ওয়াশরুম নদীতে ভেঙে পড়ে।
ভাঙনের কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এক শিক্ষার্থী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, ‘স্যার, আমাদের স্কুলটা নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। আমরা এখন কোথায় পড়ব?’
অভিভাবক ইমরান হোসেন, রুবেল, আশরাফুল ও রাজিব বলেন, ‘স্কুলটি নদীতে ভেঙে গেলে আমাদের সন্তানদের ৩-৪ কিলোমিটার দূরের অন্য বিদ্যালয়ে যেতে হবে। বর্ষাকালে হাওরের কাদা-পানি পেরিয়ে ছোট শিশুদের পক্ষে এত দূর যাওয়া অত্যন্ত কঠিন। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুর রহমান বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। যেকোনো সময় পুরো ভবন নদীতে চলে যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।’
মদন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফাতেমা সুলতানা বলেন, ‘এটিও সাহেব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।’
মদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, ‘বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। দ্রুত পানি উন্নয়ন বোর্ডের টিম নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত মগড়া নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণ করে বাগজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।