বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলে দেশে ফিরে বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। একই সঙ্গে তিনি দেশের মাটিতে বিদায়ী সিরিজ খেলতে এবং ভবিষ্যতে জাতীয় দলের হয়ে আবারও মাঠে নামার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি খেলতে থাকা সাকিব বলেন, সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করলে তিনি দেশে ফিরে আদালতের সব কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
সাকিব বলেন, সরকার যদি আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করে, তাহলে আমি সানন্দে দেশে ফিরব। আদালতের বিচার এবং প্রয়োজনীয় সবকিছুর মুখোমুখি হব। আমি জানি, আমি কোনো অন্যায় করিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। ৩৯ বছর বয়সী এই অলরাউন্ডার জানান, তিনি দেশের হয়ে বিদায়ী সিরিজ খেলতে চান এবং ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করার আশা রাখেন।
সাক্ষাৎকারে সাকিব জানান, তার বিরুদ্ধে বর্তমানে একটি হত্যা মামলা ও একটি দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলা রয়েছে। হত্যা মামলাকে তিনি ‘হাস্যকর’ বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, যে দিনের ঘটনার সঙ্গে তাকে যুক্ত করা হয়েছে, সেদিন তিনি কানাডার টরন্টোতে একটি ম্যাচ খেলছিলেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তার ব্যাংক হিসাব স্থগিত রয়েছে। প্রয়োজনীয় সব তথ্য দিতে প্রস্তুত থাকলেও তদন্তে কিছু না পাওয়া গেলে হিসাবগুলো সচল করে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
দেশে ফেরার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কথা বলার আগ্রহের কথাও জানান সাকিব। পাশাপাশি তিনি বলেন, অতীতে নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে দেশে ফেরার উদ্যোগ নিলেও যাত্রাপথে ফিরে যেতে বলা হয়েছিল। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেখ হাসিনাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানানোর পরও দেশে ফেরার পথ আরও জটিল হয়ে ওঠে বলে দাবি করেন তিনি।
রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পরামর্শ পেয়েছিলেন উল্লেখ করে সাকিব বলেন, তিনি এমন কোনো পথ বেছে নিতে চাননি। তার ভাষায়, নীতিগত অবস্থান থেকে সরে আসার সুযোগ তার ছিল না।
দীর্ঘদিন পরিবার থেকে দূরে থাকার কষ্টের কথাও তুলে ধরেন এই অলরাউন্ডার। তিনি বলেন, গত দুই বছর ধরে বাংলাদেশে থাকা বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারেননি, যা তার পরিবারের জন্য অত্যন্ত কঠিন সময় হয়ে উঠেছে।
ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে সাকিব বলেন, তিনি এখনও বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলছেন এবং নিজেকে ভালো অবস্থায় অনুভব করছেন। তবে বয়সের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খুব বেশি দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা নেই বলেও ইঙ্গিত দেন।