বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসানের মাগুরার শহরের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের চেষ্টার ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের না হলেও ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পরদিন বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে হামলাকারীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি।
বুধবার রাত ৯টার দিকে একদল দুর্বৃত্ত সাকিবের বাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। একই সঙ্গে প্রধান ফটকে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এতে বাড়ির কয়েকটি জানালার কাচ ভেঙে গেলেও আগুন দ্রুত নিভে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো যায়।
মাগুরা সদর থানার পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে গেটে আগুনের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং মোটরসাইকেলে করে এসে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে গেছে বলে প্রাথমিক তথ্য মিলেছে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং প্রয়োজনে বাড়ির নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েনের কথাও জানানো হয়েছে।
এদিকে, হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের এক নেতা ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দায়ী করলেও অভিযোগটি অস্বীকার করেছে জেলা বিএনপি। দলটির নেতারা দাবি করেছেন, এ ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় ভারতের নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি অংশ নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই অনুষ্ঠানেই ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন সাকিব আল হাসান, যিনি বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগ (এলপিএল) খেলছেন। এর কিছু সময় পরই মাগুরায় তার বাড়িতে হামলার ঘটনাটি ঘটে।