নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯৫ কেজি ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করেছে পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি)। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে মূর্তিটি ফেলে পালিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোরাকারবারীরা।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) সূত্রে জানা যায়, ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক মো. হাচানুর রহমান গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, খঞ্জনপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকার মরাডাঙ্গা গ্রামের বন বিভাগের পুরোনো আকাশমনি বাগানে কয়েকজন চোরাকারবারী একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের মূর্তি ক্রয়-বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে জড়ো হবে।
এ তথ্যের ভিত্তিতে সহকারী পরিচালক মো. হাচানুর রহমানের নেতৃত্বে ৮ সদস্যের একটি বিশেষ টহলদল রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সীমান্ত পিলার ২৫০/২-এস থেকে প্রায় ২৩০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারীরা তাদের সঙ্গে থাকা মূর্তিটি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৯৪ দশমিক ৭৫০ কেজি ওজনের একটি দুষ্প্রাপ্য কষ্টি পাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর স্থানীয় নজিপুর জুয়েলারি সমিতির অভিজ্ঞ কর্মকার প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে মূর্তিটি প্রকৃত কষ্টি পাথরের তৈরি বলে শনাক্ত করেন। পরে ৪ আগস্ট প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পাহাড়পুর কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সরেজমিনে পরীক্ষা করে এটিকে ১১–১২ শতকের উচ্চমানের কষ্টি পাথরের তৈরি একটি মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে চিহ্নিত করেন।
পত্নীতলা ব্যাটালিয়ন (১৪ বিজিবি) জানায়, নওগাঁ ও জয়পুরহাট সীমান্ত এলাকায় অবৈধ সীমান্ত পারাপার, চোরাচালান এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।