গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নীলনগর এলাকায় অবস্থিত ইউনিক সিরামিকস ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (ইটভাটা) বিরুদ্ধে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা এ অভিযোগ করেন।
অভিযোগে তারা জানান, ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসজনিত বিভিন্ন সমস্যা বেড়ে গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, কারখানা থেকে নির্গত ধুলোকণা আশপাশের পরিবেশ দূষিত করছে। এর ফলে শিশু থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, ধুলাজনিত অ্যালার্জিসহ নানা ধরনের স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া খোলা ট্রাকে কাঁচামাল পরিবহনের কারণে শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালির প্রকোপ বেড়ে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
কারখানাটির পাশেই রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা তুষুকা অবস্থিত। স্থানীয়দের দাবি, ইউনিক সিরামিকসের ইটভাটা থেকে সৃষ্ট ধুলাবালির কারণে ওই কারখানার হাজারো পোশাকশ্রমিকও প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কোনাবাড়ী-আমবাগ নামা এলাকার বসতভিটার জমি ধীরে ধীরে অধিগ্রহণ করে কারখানার কার্যক্রম সম্প্রসারণের অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। আমবাগ এলাকার এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, প্রভাব খাটিয়ে কোনাবাড়ী নামা এলাকার জমি অধিগ্রহণ করে সিরামিক কারখানার নামে ইউ-ভাটা পরিচালনা করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী যতটুকু জমি প্রয়োজন, তার চেয়ে অনেক বেশি জমি প্রতিষ্ঠানটি দখলে নিয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
পরিবেশবাদীদের দাবি, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ অনুযায়ী আবাসিক এলাকায় এ ধরনের পরিবেশ দূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা আইন ও নীতিমালার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে ইউনিক সিরামিকসের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, শুষ্ক মৌসুম ছাড়া আমরা মাটি কাটি না।
গাজীপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আরেফিন বাদল বলেন, কারখানাটির বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য এই মুহূর্তে আমার কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে জানাব।