ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় সড়কে হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর পর জব্দ করা হাতিটি এক সপ্তাহ ধরে সদরপুর থানা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। হাতিটির মালিকানা ও পরবর্তী ব্যবস্থাপনা নিয়ে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই থাকবে। আদালত মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দিলে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা হস্তান্তর করা হবে। আর বন বিভাগের জিম্মায় দেওয়ার নির্দেশ এলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, হাতিটির পরিচর্যার জন্য মালিকপক্ষের দুইজন মাহুত থানায় অবস্থান করছেন। তারা নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো এবং সার্বক্ষণিক দেখভালের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ খাদ্যের প্রয়োজন হওয়ায় কলাগাছ, ঘাসসহ বিভিন্ন খাবার সংগ্রহ করতে পুলিশ ও মাহুতদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় খাবারের ব্যবস্থা করা হলেও তা সবসময় পর্যাপ্ত হচ্ছে না।
এদিকে থানায় থাকা হাতিটিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন উৎসুক মানুষ। শিশু থেকে শুরু করে নানা বয়সী দর্শনার্থীরা পরিবার-পরিজন নিয়ে থানায় এসে হাতিটি দেখছেন এবং ছবি-ভিডিও ধারণ করছেন। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।
সদরপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোকলেসুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত হাতিটি পুলিশের হেফাজতেই থাকবে। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
একই কথা জানিয়েছেন সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আল মামুন শাহ। তিনি বলেন, আদালত যে নির্দেশ দেবেন, পুলিশ সেটিই বাস্তবায়ন করবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় চাঁদা এড়াতে গিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের কোলে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা মাহুত বকুল মিয়াকে আটক করে গণপিটুনি দেয় এবং হাতিটিকে জব্দ করে। পরে পুলিশ মাহুতকে হেফাজতে নেয় এবং হাতিটিকে সদরপুর থানায় নিয়ে আসে। এরপর থেকে আদালতের নির্দেশনার অপেক্ষায় হাতিটি থানাতেই রয়েছে।