নবীনগরে অনাবাদি জমিতে সোলার সেচে বদলে যাচ্ছে আউশ চাষের চিত্র

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা

সারাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে এবার সৃষ্টি হয়েছে আউশ ধান চাষের নতুন সম্ভাবনা। আধুনিক সোলার সেচ ব্যবস্থা, কৃষি বিভাগের

2026-08-04T18:26:28+00:00
2026-08-04T18:26:28+00:00
  বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
নবীনগরে অনাবাদি জমিতে সোলার সেচে বদলে যাচ্ছে আউশ চাষের চিত্র
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৬:২৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার দীর্ঘদিনের অনাবাদি জমিতে এবার সৃষ্টি হয়েছে আউশ ধান চাষের নতুন সম্ভাবনা। আধুনিক সোলার সেচ ব্যবস্থা, কৃষি বিভাগের পরিকল্পিত উদ্যোগ এবং কৃষকদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে চলতি মৌসুমে পৌরসভার দোলাবাড়ী, সাতমোড়া, রতনপুর ও সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় প্রথমবারের মতো প্রায় ১৫০ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

তিতাস নদীতীরবর্তী এলাকায় ফ্রিপ (FREAP) প্রকল্পের অর্থায়নে স্থাপিত সোলার সেচ ব্যবস্থার মাধ্যমে নবায়নযোগ্য সৌরশক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে কৃষিজমিতে নিরবচ্ছিন্ন সেচের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষি বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে উন্নতমানের বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ দেওয়া হয়েছে। ফলে একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা জমি এখন সবুজ ধানের ক্ষেতে পরিণত হয়েছে।

সরেজমিনে দোলাবাড়ী গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাঠজুড়ে দুলছে পাকা আউশ ধানের সোনালি শীষ। সেখানে প্রথমবারের মতো প্রায় ৭৫ বিঘা জমিতে ব্রি ধান-৯৮ ও ব্রি ধান-৪৮ জাতের আউশ ধানের আবাদ হয়েছে।

দোলাবাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারের সোলার সেচ স্কিমের কারণে এখন অল্প খরচে সেচ সুবিধা পাচ্ছি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় প্রথমবারের মতো এত বড় পরিসরে আউশ চাষ করেছি। ফসলের অবস্থা খুব ভালো। আশা করছি বাম্পার ফলন হবে।

সাতমোড়া ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সফুরুল্লাহ জানান, গত মৌসুমে কৃষক মন্নান মিয়ার জমিতে বিনা ধান-১৯-এর প্রদর্শনী সফল হওয়ায় তিনি বীজ সংরক্ষণ করেন। চলতি মৌসুমে বাংলাদেশ কৃষি পরমাণু গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রদর্শনী ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ, সার ও অন্যান্য উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। এর ফলে চুওরিয়া গ্রামে নতুন করে প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ সম্প্রসারিত হয়েছে।

চুওরিয়া গ্রামের কৃষক মন্নান মিয়া বলেন, গত বছরের ভালো ফলনের কারণে সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেছি। আমার কাছ থেকে আরও কয়েকজন কৃষক বীজ সংগ্রহ করে আউশ চাষ করেছেন। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় এবার ফলনের সম্ভাবনাও অনেক ভালো।

পৌরসভা ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আক্তারুজ্জামান বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সার্বিক নির্দেশনায় দোলাবাড়ী ব্লকে নতুন করে আউশ আবাদের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। কৃষকদের নিয়মিত মাঠপর্যায়ে পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়েছে। আধুনিক সোলার সেচ প্রযুক্তির কারণে আগামীতে আরও অনাবাদি জমিকে আউশ চাষের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

নবীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, নবায়নযোগ্য শক্তিভিত্তিক সোলার সেচ স্কিমের আওতায় প্রথমবারের মতো দোলাবাড়ীতে একসঙ্গে ৭৫ বিঘা জমিতে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। উন্নতমানের ভূগর্ভস্থ পাইপলাইনের মাধ্যমে সেচের পানি সরবরাহ করায় পানির অপচয় কমেছে এবং কৃষকদের সেচ ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চলতি মৌসুমে নবীনগর উপজেলায় প্রায় ১৫০ বিঘা অনাবাদি জমিতে নতুন করে আউশ ধানের আবাদ হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, বোরো মৌসুম শেষে বন্যামুক্ত অনাবাদি জমিগুলোকে স্বল্পমেয়াদি আউশ চাষের আওতায় এনে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষকের আয় বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

মাঠজুড়ে দুলতে থাকা সোনালি আউশ ধানের শীষ আজ শুধু একটি সফল মৌসুমের প্রতীক নয়; বরং নবীনগরে টেকসই কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: