
পটুয়াখালীতে যাত্রীবাহী বাস ও ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও সাতজন। আহতদের মধ্যে দুজন পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের বসাকবাজারসংলগ্ন দলুগাজীর মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—ইজিবাইকের চালক মো. কাইউম প্যাদা (৫০), যাত্রী জাহাঙ্গীর হাওলাদার (৩২), শিল্পী রানী (৪০) ও তাঁর মেয়ে বিথী রানী (২২)। তাঁরা সবাই গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বৌবাজার এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিল্পী রানী তাঁর মেয়ে বিথীকে নিয়ে চিকিৎসকের কাছে পটুয়াখালী শহরে এসেছিলেন। চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত দুজন হলেন—লিলি বেগম (৪০) ও শামসুন্নাহার (৬০)। তাঁদের পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা পটুয়াখালী সদর ও কলাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা।
পুলিশ ও বাসের আহত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ‘ইমরান ট্রাভেলস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসে। রাত সাড়ে ১১টার দিকে দলুগাজীর মোড় এলাকায় পৌঁছালে বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে বাস ও ইজিবাইক দুটিই সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।
সংঘর্ষে ইজিবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই শিল্পী রানী, বিথী রানী ও কাইউমের মৃত্যু হয়। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইজিবাইকের অপর যাত্রী জাহাঙ্গীর হাওলাদারের মৃত্যু হয়।
বাসটি সড়কের পাশের খাদে পড়ে যাওয়ায় অন্তত সাতজন যাত্রী আহত হন।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট উদ্ধারকাজে অংশ নিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিনজনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আহতদের হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাসের ভেতরে কেউ আটকে আছেন কি না বা পানিতে আরও কোনো মরদেহ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে রাতেও উদ্ধার অভিযান চালানো হয়েছে।’
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, নিহতদের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।