কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. নাহিদা বেগমের ১৩ বছর বয়সী ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তে নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। নিখোঁজ হওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে ক্যাপ পরা এক কিশোরকে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে।
এ ঘটনায় সন্দেহজনক হিসেবে তুহিন নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার দুপুরে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর কোটবাড়ী এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তার বাড়ি সানন্দা এলাকায়। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কোটবাড়ী ও বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম। শনিবার সকালে একটি ফুটেজে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কাছে অপ্রতিমের সঙ্গে ক্যাপ পরা এক কিশোরকে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এম এম শরীফুল করীম বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার সময় স্থানীয় এক ছেলেকে অপ্রতিমের সঙ্গে ঘোরাঘুরি করতে দেখে। তার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, অপ্রতিম শুক্রবার বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফেরেনি। বিষয়টি জানার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম, ডিনসহ শিক্ষক-কর্মকর্তারা তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পাশাপাশি পুলিশকে জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি টিমও তাকে উদ্ধারে কাজ শুরু করে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের মিডিয়া কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে একজনকে আটক করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অপ্রতিম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। শুক্রবার দুপুরে কোটবাড়ী এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বের হয়েছিল সে। এরপর তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
শনিবার বেলা ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুর ইউনিয়নের সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি এখনো উদ্ধার হয়নি। তবে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে হত্যা করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হত্যার কারণ সম্পর্কেও নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং অপ্রতিমের মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।