সিলেটের একটি মাজারের পাঁচটি দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। নগদ অর্থের পাশাপাশি মিলেছে স্বর্ণালঙ্কার এবং ১৫ দেশের বৈদেশিক মুদ্রা।
মাজার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দানবাক্স ও মানতের ডেগ থেকে পাওয়া স্বর্ণের পরিমাণ ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি।
গণনার সময় পাওয়া বিদেশি মুদ্রার মধ্যে রয়েছে—যুক্তরাজ্যের ৫ পাউন্ড, ভারতের ৩ হাজার ৯৯৪ রুপি, থাইল্যান্ডের ৫ বাত, সৌদি আরবের ৯৯ রিয়াল ২৫ পয়সা, মালয়েশিয়ার ২৯ রিঙ্গিত, যুক্তরাষ্ট্রের ৮ ডলার ২ সেন্ট, ওমানের ৯০৩ বায়সা, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৭ দিরহাম ২৫ সেন, ইরাকের ১ দিনার, কাতারের ২১ রিয়াল ৫০ পয়সা, ইউরোপের ৩০ ইউরো ১০ সেন্ট, বাহরাইনের ০.০২৫ পয়সা, পাপুয়া নিউ গিনির ৫০ কিনা, চীনের ১৫ ইউয়ান এবং ইন্দোনেশিয়ার ৫ হাজার রুপিয়া।
চার দফায় জমা পড়ল সোয়া দুই কোটি টাকার বেশি : চলতি বছরের ১৮ জুন মাজারের ডেগগুলো সিলগালা করে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দানবাক্স স্থাপন করা হয়। এরপর নির্ধারিত সময় পরপর দানবাক্স খুলে অর্থ গণনা করা হচ্ছে।
এর আগে তিন দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ থেকে অর্থ সংগ্রহ করা হয়। গত ২২ জুন প্রথম দফায় পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত হওয়ায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। ওই সময়ও স্বর্ণালঙ্কার ও বিদেশি মুদ্রা পাওয়া যায়।
এরপর ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় গণনা করে পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। সেবারও বিভিন্ন দেশের মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রূপার সামগ্রী পাওয়া যায়।
সর্বশেষ ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। তখনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার সঙ্গে সোনা ও রূপার অলঙ্কার পাওয়া যায়।
সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বরের গণনাসহ চার দফায় পাওয়া নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা।
প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জমা হবে অর্থ : সংশ্লিষ্টরা জানান, নির্ধারিত নিয়ম অনুসরণ করেই প্রতিবার দানবাক্স খোলা, অর্থ গণনা ও হিসাব সংরক্ষণের কাজ করা হচ্ছে। গণনা শেষে পাওয়া অর্থ প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের তহবিলে জমা রাখা হবে।
মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে গঠিত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হচ্ছে।