রাত নামলেই লাউয়াছড়ায় গাছ চোরের হানা, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা

সারাদেশ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া ও কালাছড়াসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে বড় বড় গাছ। সাম্প্রতিক সময়ে গাছ চোরদের তৎপরতা

2026-09-20T15:26:23+00:00
2026-09-20T15:26:23+00:00
  রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৫ আশ্বিন ১৪৩৩
 
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
রাত নামলেই লাউয়াছড়ায় গাছ চোরের হানা, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা
রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৬ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া ও কালাছড়াসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে রাতের আঁধারে চুরি হচ্ছে বড় বড় গাছ। সাম্প্রতিক সময়ে গাছ চোরদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি ও এর জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

সরেজমিনে বনাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সেগুন, আগর, গর্জন, আকাশমণি ও চাপালিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। পড়ে আছে কাটা গাছের গোড়া। দুর্গম পাহাড়ি পথ ব্যবহার করে চোরাই কাঠ বিভিন্ন করাতকলে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের কালাছড়া বনবিটের দুর্গম এলাকাগুলোতে একটি চক্র নিয়মিত গাছ কাটছে। গভীর রাতে বনের ভেতরে প্রবেশ করে গাছ কাটার পর পাহাড়ি পথ দিয়ে দ্রুত কাঠ সরিয়ে নেওয়া হয়। অনেক সময় রাতের বেলা বন থেকে গাছ কাটার শব্দ ও কাঠবোঝাই যানবাহন চলাচল করতে দেখা যায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গাছ চুরিতে বাধা দিতে গেলে কখনো কখনো হুমকির মুখেও পড়তে হয়। দুর্গম এলাকায় এসব কর্মকাণ্ড চলায় সব সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা বন বিভাগের নজরদারিতে তা আসে না।

কালাছড়া বনবিট কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম নাঈম বলেন, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর গাছ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সংখ্যক মামলা করা হয়েছে। চোরাই কাঠ উদ্ধারে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

পরিবেশকর্মী নুরুল মোহাইমিন মিল্টন বলেন, প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই কয়েকটি করে করাতকল রয়েছে। এসব করাতকলে আসা কাঠের উৎস যাচাই করা জরুরি। অবৈধভাবে গাছ নিধন বন্ধের পাশাপাশি অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধেও নিয়মিত অভিযান চালানো প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, করাতকলগুলোতে আসা কাঠের উৎস যাচাই, লাইসেন্সের তথ্য প্রকাশ এবং চোরাই কাঠের সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলে গাছ চুরি কমানো সম্ভব।

বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিলেট বিভাগীয় বন কার্যালয়ে জনবল ঘাটতি রয়েছে প্রায় ৪০ শতাংশ। বিট ও রেঞ্জ পর্যায়ে মোটরসাইকেল ও টহল গাড়িরও সংকট রয়েছে। বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের আওতায় ৯০টি মামলায় ২৩১ জনকে আসামি করা হয়েছে এবং ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা কাজী নাজমুল হক বলেন, সেগুন গাছ চুরির খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। চুরি যাওয়া গাছ উদ্ধার এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে অভিযান চলছে।

তিনি বলেন, বন বিভাগের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী এ ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ও দাপ্তরিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, বিভিন্ন সময়ে মামলা, কাঠ জব্দ ও যানবাহন আটক হলেও চোরাই কাঠের মূল হোতারা কেন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকছে। তাদের মতে, শুধু কাঠ ও বাহকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে গাছ চুরির সঙ্গে জড়িত পুরো চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ সংরক্ষিত বনাঞ্চল শুধু কাঠের উৎস নয়; এটি নানা প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে বনভূমি ক্ষতিগ্রস্ত হলে এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: