ডেঙ্গু রোগীর চাপ সামাল দিতে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ৩০টি হাসপাতাল বেড হস্তান্তর করেছে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। একই সঙ্গে ডেঙ্গু প্রতিরোধে নগরজুড়ে মশক নিধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। শনিবার নতুন ডেঙ্গু ইউনিটের চিকিৎসা কার্যক্রম উদ্বোধনের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় চলমান পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।
শনিবার দুপুরে খুমেক হাসপাতালে স্থাপিত পৃথক ডেঙ্গু ইউনিটের কার্যক্রম উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, ডেঙ্গু সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার সক্ষমতাও বাড়ানো হচ্ছে। আগামী তিন মাস সমন্বিতভাবে কার্যক্রম চালিয়ে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কেসিসি সূত্রে জানা যায়, গত ১২ সেপ্টেম্বর খুমেক হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের ২০০ শয্যার কোভিড-১৯ ইউনিটকে ডেঙ্গু ইউনিটে রূপান্তরের পরামর্শ দেন কেসিসি প্রশাসক। ওই ইউনিটে বেডের ঘাটতি থাকায় কেসিসির পক্ষ থেকে ৩০টি বেড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় কেসিসির স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এক দিনের বেতনের সমপরিমাণ অর্থ অনুদান হিসেবে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই অর্থে প্রতিটি ২০ হাজার টাকা করে মোট ৬ লাখ টাকায় ৩০টি বেড কেনা হয়। শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বেডগুলো খুমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, খুমেক হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আখতারুজ্জামান, কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরাসহ কেসিসির বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা এবং হাসপাতালের চিকিৎসকেরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে শনিবার সকালে নগরীর রায়পাড়া মেইন রোডের মনসুর-লিটন স্মৃতি সংসদ চত্বরে সপ্তাহব্যাপী মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন কেসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশক নিধন নয়, নগরবাসীকেও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখতে হবে। জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
পরে নজরুল ইসলাম মঞ্জু সোনাডাঙ্গা থানার সোনারবাংলা স্কুল সড়ক, সিদ্দিকিয়া মহল্লা, হাজী ইসমাইল লিংক রোড, আবু আহমেদ সড়ক এবং সদর থানার স্যার ইকবার রোড ও রায়পাড়া মেইন রোড এলাকায় চলমান মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
ডেঙ্গুর বাড়তি চাপের মধ্যে খুমেক হাসপাতালে ৩০ শয্যার নতুন ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালু হওয়ার খবরও শনিবার প্রকাশিত হয়েছে।
কেসিসি প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও নগরবাসীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে এডিস মশার বিস্তার রোধে সবাইকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।