ত্রিশালে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা

সারাদেশ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং চলছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম

2026-08-04T15:44:47+00:00
2026-08-04T15:44:47+00:00
  বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
 
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
ত্রিশালে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ পিএম 
প্রতীকী ছবি
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে পল্লী বিদ্যুতের তীব্র লোডশেডিং চলছে। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। ঘন ঘন বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার পাশাপাশি একটানা কয়েক ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন।

পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকদের অভিযোগ, শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সকাল ৮টায় সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। তবে মাত্র এক ঘণ্টা পর সকাল ৯টায় আবার বিদ্যুৎ চলে যায়। এরপর টানা তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকার পর দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যুৎ আসে। বিকেলেও কয়েক দফা বিদ্যুৎ আসা-যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সন্ধ্যার পর আবার বিদ্যুৎ চলে গেলে রাত ১০টার দিকে কিছু সময়ের জন্য সরবরাহ স্বাভাবিক হয়। তবে এক ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে আবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে রাত ১২টার দিকে প্রায় আধা ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ এলেও পুনরায় চলে যায়। সবশেষে রাত পৌনে ৩টার দিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়।

শনিবারও একই চিত্র দেখা যায়। সকাল ৭টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর দুপুর ১২টায় সরবরাহ ফিরে আসে। আবার দুপুর দেড়টার দিকে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে বিকেল ৩টায় স্বাভাবিক হয়। রোববার দিনভর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পর রাত ১১টার দিকে বিদ্যুৎ চলে যায় এবং ভোর সোয়া ৫টার দিকে সরবরাহ ফিরে আসে। সোমবারও দিনব্যাপী লোডশেডিং অব্যাহত ছিল।

এভাবে বারবার বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শুধু ঘরোয়া জীবনযাত্রাই নয়, ব্যবসা-বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছেন না। অফিস-আদালত ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় পানির পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহেও সংকট দেখা দিয়েছে।

গ্রাহকদের দাবি, বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত না করলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

ত্রিশাল পৌরসভার দরিরামপুর গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রাতেও স্বস্তিতে ঘুমানো যায় না। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।

মঠবাড়ী ইউনিয়নের বামনাখালী গ্রামের বাসিন্দা মাসুদ রানা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি এর আগে কখনো দেখিনি।

কানিহারী ইউনিয়নের এলংজানী গ্রামের সাদ্দাম হোসেন বলেন, চরম লোডশেডিংয়ের কারণে সারারাত আমার ছোট ছোট বাচ্চারা গরমে ছটফট করে। বিদ্যুতের এই দুর্ভোগ এখন অসহনীয় হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ত্রিশাল শাখার এজিএম মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, আমাদের বিদ্যুতের বরাদ্দ কমে গেছে। চাহিদা প্রায় ২২ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে আমরা মাত্র ১০ থেকে ১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। অনেক সময় তা ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াটে নেমে আসে। এ কারণেই লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।


Loading...
Loading...

সারাদেশ- এর আরো খবর

Loading...
Loading...
© 2026 Daily Daily Bhorer Dak
সম্পাদক ও প্রকাশক : কে.এম. বেলায়েত হোসেন
৪-ডি, মেহেরবা প্লাজা, ৩৩ তোপখানা রোড, ঢাকা-১০০০ থেকে প্রকাশিত এবং মনিরামপুর প্রিন্টিং প্রেস ৭৬/এ নয়াপল্টন, ঢাকা থেকে মুদ্রিত। পিএবিএক্স: ৪১০৫২২৪৫, ৪১০৫২২৪৬, ০১৭৭৫-৩৭১১৬৭, বিজ্ঞাপন ও সার্কুলেশন: ৪১০৫২২৫৮
ই-মেইল : [email protected], [email protected]
ফলো করুন: