দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এবারের সভায় আলোচনার টেবিলে অন্যতম ইস্যু থাকবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। এ নিয়ে আভাস দিয়েছেন বিএনপির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা। ত্রয়োদশ নির্বাচনে গঠিত সরকারের পটভূমিতে এটি দলটির স্থায়ী কমিটির চতুর্থ সভা। আজ শনিবার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন দলটির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
গতকাল শুক্রবার তিনি বলেন, স্থায়ী কমিটির বৈঠকের বিষয়টি দুই দিন আগেই কমিটির সদস্যদের অবহিত করা হয়েছে। বৈঠকের আলোচ্য সূচির বিষয়ে জানতে চাইলে শায়রুল কবির বলেন, এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। নির্দেশনা পেলে নিশ্চিত করে বলতে পারব। দল ও দেশের সমসাময়িক ইস্যুতেই আলোচনা হতে পারে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঙ্গভবনে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক চেয়ারে বসেন মো. সাহাবুদ্দিন। তিন বছরের কার্যকালে তিনি একাধারে তিন রাষ্ট্রপ্রধানকে শপথ পড়িয়েছেন। ‘শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা’ না থাকার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান। মো. সাহাবুদ্দিনের অবর্তমানে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
সাহাবুদ্দিনের উত্তরসূরি কে হবেন, সেই আলোচনার মধ্যে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকল বিএনপি। বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুজন সদস্য বলেছেন, এদিন রাষ্ট্রপতি নিয়ে ‘সিদ্ধান্তে’ আসতে পারে বিএনপি। স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বুধবার বিকেলে বলেন, শনিবারের বৈঠকে রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে আলোচনা হবে।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে জাতীয় সংসদের স্পিকারের সঙ্গে সমন্বয় করে। বর্তমানে স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন কায়সার কামাল। গত মঙ্গলবার তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্তত তিনজন সদস্যের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে ছয়জনের নাম উঠে এসেছে। এ তালিকায় আছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান ও ভাইস চেয়ারম্যান আলতাফ হোসেন চৌধুরী।
সরকারের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছেন, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নামও আলোচনায় আছে। অবসরে যাওয়া প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নামও রয়েছে আলোচনায়। মন্ত্রীপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক অধ্যাপকের নামও আলোচনায় এসেছে।
এদিকে তৃণমূলকে সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে বিভিন্ন জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে দলের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের নীলফামারী, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাট জেলা এবং রংপুর জেলা ও মহানগরের দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। আজকের বৈঠকে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বিএনপির তৃণমূলের প্রস্তুতির বিষয়টি উঠে আসতে পারে বলেও জানিয়েছেন একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা। তারা ভোরের ডাককে বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুবই সন্নিকটে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতে নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচন উপলক্ষে দলীয় অগ্রগতি ও শৃঙ্খলা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।
এর আগে সর্বশেষ গত ১১ জুলাই স্থায়ী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায়, সেই সভায় চারটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র। আলোচনার বিষয়গুলো ছিল : আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন, দলের জাতীয় কাউন্সিল, সাংগঠনিক বর্তমান পরিস্থিতি এবং নেতা-কর্মীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার উপায়। আজকে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকেও গত বৈঠকের আলোচ্য বিষয়গুলোর অগ্রগতি আলোচনা হবে একইসাথে যোগ হবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইস্যু।