রাজধানীর যানজট কমাতে এবং দ্রুত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন করে চালু হচ্ছে ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট (এমআরটি) লাইন-৫ (দক্ষিণ) প্রকল্প। দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অবশেষে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে এগোচ্ছে। সরকারের নীতিগত সম্মতি পাওয়ার পর এখন একনেকের অনুমোদনের প্রস্তুতি চলছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর পশ্চিমাঞ্চলের গাবতলী থেকে পূর্বাঞ্চলের দাশেরকান্দি পর্যন্ত যাত্রা করা যাবে মাত্র ২৮ মিনিটে। প্রতিদিন প্রায় ৯ লাখ ২৪ হাজার যাত্রী এই মেট্রোরেল ব্যবহার করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
প্রকল্পের মোট দৈর্ঘ্য হবে ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথ এবং ৪ দশমিক ১০ কিলোমিটার উড়ালপথ। এই রুটে থাকবে ১১টি পাতাল স্টেশন ও ৪টি উড়াল স্টেশন। ট্রেনের সর্বোচ্চ গতি হবে উড়ালপথে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার এবং পাতালপথে ৯০ কিলোমিটার।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন ডিপিপিতে প্রকল্পের ব্যয় ৭ হাজার ৩৬৫ কোটি টাকা কমিয়ে মোট ৪৭ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩২ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও কোরিয়ার ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড (ইডিসিএফ)। বাকি ১৫ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা বহন করবে সরকার।
সরকারের দাবি, প্রকল্পটি চালু হলে বছরে ২১ কোটি ৪৯ লাখ ৭০ হাজার কর্মঘণ্টা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি সড়কে যানবাহনের চাপ কমবে, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস পাবে এবং বছরে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার টন কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে।
প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই, বিস্তারিত নকশা, ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনার কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। শিগগিরই এটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকল্পটি রাজধানীর পূর্ব-পশ্চিম করিডোরে যাতায়াতে বড় পরিবর্তন আনবে। তবে যাত্রীসংখ্যা বাড়াতে প্রতিটি স্টেশনের সঙ্গে কার্যকর আন্তঃসংযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব বলেন, নতুন সরকারের নীতিগত পরিবর্তন ও উন্নয়ন সহযোগীদের ইতিবাচক অবস্থানের কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাজধানীর যানজট নিরসন এবং নগরবাসীর দ্রুত যাতায়াত নিশ্চিত করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বলে তিনি মন্তব্য করেন।