কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে খুলনার ফুলতলা ও বিলডাকাতিয়া এলাকার জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি আবারও সংকটাপূর্ণ আকার ধারণ করেছে। গত ১২ জুলাইয়ের পর থেকে কয়েক দফা বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বেড়ে যাওয়ায় মাছের ঘের, আউশের ক্ষেত ও সবজির জমি তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এতে একদিকে যেমন কৃষক ও মৎস্যচাষিরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন, অন্যদিকে আমন মৌসুম নিয়েও দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্র জানায়, অতিবৃষ্টির কারণে উপজেলার ২ হাজার ১৪০ হেক্টর এলাকায় থাকা ৪ হাজার ৫৯০টি মাছের ঘের প্লাবিত হয়েছে। অনেক ঘের মালিক নেট দিয়ে বাঁধ দিয়ে মাছ রক্ষার চেষ্টা চালাচ্ছেন। উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে প্রায় ২০০টি ঘের সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। আরো অনেক ঘের পানির নিচে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, জলাবদ্ধতার কারণে ২৯ হেক্টর আউশ আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ৬০ দশমিক ৭০ হেক্টর জমিতে আমনের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও পানি বাড়ায় কৃষকেরা এখনো বীজতলা প্রস্তুতের কাজ শুরু করতে পারেননি। বৃষ্টির পরিমাণ আরো বাড়লে আউশের জমি ও আমনের বীজতলা উভয়ই ক্ষতির মুখে পড়বে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার উঁচু এলাকায় ১২৫ হেক্টর জমিতে শাকসবজির আবাদ হয়েছিল। এর মধ্যে ৮৫ হেক্টরের ফসল সংগ্রহ করা গেলেও অবশিষ্ট ৪০ হেক্টরের সবজি সম্পূর্ণ পানির নিচে চলে গেছে। এতে কৃষকদের লোকসানের পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও সবজির সরবরাহে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বিলডাকাতিয়া এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগের মুখে পড়তে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, ঋণের বোঝাও ভারী হচ্ছে। দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চলতি মৌসুমে কৃষি ও মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।