যোগাযোগের জন্য আধুনিক মানুষের হাতে রয়েছে অসংখ্য মাধ্যম—রেডিও, টেলিভিশন, টেলিফোন, মোবাইল, ইন্টারনেট, ফেসবুক, ই-মেইলসহ আরও অনেক কিছু। যেন আলাদিনের চেরাগে ঘষা দিলেই সবকিছু মুহূর্তেই হাতের নাগালে চলে আসে। কিন্তু এত প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পরও মানুষ যেন ক্রমেই আরও নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে। আধুনিকতার আরেক নামই যেন নিঃসঙ্গতা।
এই বাস্তবতাকেই উপজীব্য করে নির্মিত হয়েছে নাটক ‘নিঃসঙ্গ নিরাময়’। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র প্রবাসী রাইসা খানম। স্বামীকে হারিয়েছেন প্রবাসে, একমাত্র ছেলে বিদেশিনীকে বিয়ে করে সেখানেই স্থায়ী হয়েছে। একাকীত্বের ভার নিয়ে রাইসা দেশে ফিরে আসেন স্বজনদের কাছে। কিন্তু দেশে এসেও তিনি দেখতে পান, চারপাশে মানুষে মানুষে ভিড় থাকলেও আন্তরিক সম্পর্কের বড় অভাব। একই ছাদের নিচে থেকেও মানুষ একে অপরের সঙ্গী হতে পারছে না। এই বাস্তবতা থেকেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নিঃসঙ্গ নিরাময় কেন্দ্র’।
একদিন নিঃসঙ্গ প্রৌঢ় মাহাবুব হাসান কৌতূহলবশত কেন্দ্রটিতে প্রবেশ করেন। রাইসার ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে তিনি সেখানে নিয়মিত সেশন নিতে শুরু করেন। ঘটনাক্রমে মাহাবুবের উড়নচণ্ডী ছেলে রাহবার ও তার বান্ধবী রুকুও সেখানে উপস্থিত হয়। রাইসার প্রস্তাবে রুকু কেন্দ্রটিতে চাকরি নেয়। দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে একদিন সে মাহাবুবকে সঙ্গ দিতে যায়, তবে তিনি যে রাহবারের বাবা—সেটি তার জানা ছিল না।
রুকুর এই দায়িত্ব পালনের ঘটনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে রাহবার। এতে বাবা-ছেলের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও গভীর হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে রাইসাকে মধ্যস্থতায় নামতে হয়। তখন মাহাবুব নিজের জীবনের ব্যর্থতা ও সংগ্রামের গল্প তুলে ধরে রাইসার সামনে এমন এক প্রস্তাব রাখেন, যা গ্রহণ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়ে ওঠে না।
এমন জীবনঘনিষ্ঠ কাহিনি নিয়ে গত রবিবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল হলে মঞ্চস্থ হয় নাটক ‘নিঃসঙ্গ নিরাময়’। সমসাময়িক সামাজিক বাস্তবতা ও মানবিক সম্পর্কের সংকটকে তুলে ধরা নাটকটি দর্শকদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়ায়।
নাটকে অভিনয় করেছেন নাসরীন গীতি, আরিস্কা খান, নাজমুল হাসান, কানন খান, তাহমিনা আক্তার লিজাসহ আরও অনেকে।